রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হচ্ছে মহারাষ্ট্রে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৪১ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৯

মহারাষ্ট্রে প্রাদেশিক সরকার গঠনে এখনো কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেনি। রাজ্যটির সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে তৃতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টিকে (এনসিপি) সরকার গঠনে আজ রাত ৯টা পর্যন্ত সময় দেয়া আছে। কিন্তু এরমধ্যেই মোদির মন্ত্রিসভা রাজ্যটিতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া ট্যুডে সূত্রের বরাতে পৃথক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির জন্য রাজ্যপালকে সুপারিশ করছে মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রিসভা। এদিকে সরকার গঠনের সুযোগ পেলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এনসিপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত শিবসেনাকে সরকার গঠনের সময়সীমা বেধে দেয়া ছিল। কিন্তু নানা তদবির করেও শেষ পর্যন্ত্র কংগ্রেসের সমর্থনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে দলটি ব্যর্থ হলে তৃতীয় সর্বোচ্চ আসনে জয়ী এনসিপিকে সরকার গঠনের আহ্বান জানান রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারি। এর আগে প্রথম সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিজেপিও সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়।

সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আজ রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে এনসিপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রকে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করবেন রাজ্যপাল। প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে রাজ্যপাল কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এদিকে ব্রাজিল সফর পিছিয়ে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

মহারাষ্ট্রের নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। সাংবিধানিক রীতি মেনে রাজ্যপাল প্রথমে বৃহত্তম দল বিজেপিকে তিনদিনের মধ্যে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর পদ ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র শিবসেনার সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় সরকার গঠনে ব্যর্থ হয় কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি।

তারপর দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল শিবসেনাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানান রাজ্যপাল। দলটিকে একদিনের সময়সীমা বেধে দেয়া হয়। তাদের জোট শরিক হতে রাজি হয় এনসিপি। কিন্তু সরকার গঠন করতে হলে কংগ্রেসের সমর্থন প্রয়োজন ছিল শিবসেনার। কংগ্রেস ইঙ্গিত দিয়েও শেষ মুহূর্তে সমর্থন করবে না জানালে তারাও ব্যর্থ হয়।

গতকাল সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে কংগ্রেসের নীতি নির্ধারকদের বৈঠক শেষে জানানো হয় শিবসেনাকে সমর্থন দেবে না তারা। এদিকে এনসিপি যদি সরকার গঠন করতে চায় তাহলে কংগ্রেস ও শিবসেনার সমর্থন লাগবে দলটির। আজ বিকেল ৫টায় কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন এনসিপির শারদ পাওয়ার।

তবে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস এনসিপিকে সমর্থন দিলেও শিবসেনার সমর্থন দলটি পাবে কি না এ নিয়েও আছে সংশয়। কেননা গত ৩০ বছর ধরে বিজেপির জোটসঙ্গী শিবসেনা। মুখ্যমন্ত্রীর পদ ভাগাভাগি নিয়ে বিজেপি তাদের ‘৫০:৫০’ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে শিবসেনার একমাত্র মন্ত্রী গতকাল পদত্যাগ করেছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, যদি এনসিপি শিবসেনাকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব দেয়ার বিনিময়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে তাহলে হয়তো তারা সফল হতে পারে। তবে এনসিপি মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়ে সরকার গঠন করবে কিনা এ নিয়েও সংশয় আছে। অবশ্য কংগ্রেস চায় মহরাষ্ট্রে ‘অ-বিজেপি’ সরকার গঠন হোক।

রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের মতে, মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন নিয়ে ভারতের রাজনীতি এখন সরগরম। তারা বলছেন, শেষ পর্যন্ত রাজ্যটিতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনাই বেশি। এনসিপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হলে আজ রাতেই কেন্দ্র সরকারকে সেই সুপারিশ করবেন রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারি।

এদিকে প্যাচ লেগেছে আরও এক জায়গায়। সরকার গঠনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে গতকাল সন্ধ্যায় রাজ্যপালের কাছে তিনদিন সময় বৃদ্ধির আবেদন করে শিবসেনা। কিন্তু রাজ্যপাল তা প্রত্যাখান করে এনসিপিকে সরকার গঠনের আহ্বান জানায়। শিবসেনা ঘোষণা দিয়েছে তারা বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে তুলবে।

প্রসঙ্গত, মহারাষ্ট্রের নির্বাচনে বিজেপি ১০৫, শিবসেনা ৫৬, এনসিপি ৫৪ ও কংগ্রেস ৪৪টি আসনে জয়লাভ করে। ২৮৮ আসন বিশিষ্ট বিধানসভায় সরকার গঠনে প্রয়োজন ১৪৫ আসন।

এসএ/এমকেএইচ