শপথ নিলেন শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:০৩ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গোটাবায়া রাজাপাকসে। তিনি শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের ভাই। শনিবারের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সোমবার প্রধান বিচারপতি তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।

নির্বাচনে মূলত লড়াইটা হয়েছে রাজাপাকসে ও প্রেমাদাসা পরিবারের মধ্যে। নির্বাচনের ফল বলছে, তামিল গেরিলাদের হারিয়ে ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানের নায়ক ৭০ বছর বয়সী গোটাবায়া রাজাপাকসে ৫২.২৫ শতাংশ এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ৫২ বছরের সাজিথ প্রেমাদাসা পেয়েছেন ৪৫.২ শতাংশ ভোট।

বৌদ্ধ অধ্যূষিত দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনুরাধাপুরায় অবস্থিত ঐতিহাসিক রুয়ানবেলি সেয়া বৌদ্ধ মন্দিরে শ্রীলঙ্কার প্রধান বিচারপতি জয়ন্ত জয়সুরিয়া গোটাবায়াকে শপথবাক্য পাঠ করান। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা দেশটির প্রেসিডেন্ট হলেন।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগেই জয়ী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন গোটাবায়া রাজপাকসে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতিকে তার সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে গোটাবায়া বলেছন, ‘আমি জানতাম, শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলীদের ভোট পেলেও আমিই জিতবো। কিন্তু তামিল ও মুসলিমরা আমার এই সফলতার অংশীদার। তাদের এমন সমর্থন আমি প্রত্যাশাও করিনি। এক শ্রীলঙ্কা গঠনে আমি তাদেরকে আমার সঙ্গে যোগ দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

গোটাবায়া রাজপাকসেকে তার পরিবার ‘টার্মিনেটর’ উপাধি দিয়েছে। তবে সমালোচকরা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধপরাধের অভিযোগ তুলে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। ২০০৯ সালে গৃহযুদ্ধ অবসানের শেষ ধাপে তামিল বিদ্রোহীদের গণহত্যা, গুম ও নির্যাতনকরাসহ নানা অপরাধের জন্য তাকে দায়ী করা হয়।

শ্রীলঙ্কার এবারের নির্বাচনে মোট ৩৫ জন প্রার্থী ছিলেন। গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটি ছিল দেশটির তৃতীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। গোটাবায়া রাজাপাকসে শ্রীলঙ্কার পিপলস ফ্রন্ট পার্টির প্রধান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) প্রার্থী সাজিথ প্রেমাদাসা।

এসএ/জেআইএম