হংকংয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ঘেরাও, অনেক শিক্ষার্থী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:১৫ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

বিক্ষোভের শহর হংকংয়ে পুলিশের ঘিরে রাখা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীরা পালানোর চেষ্টা করার সময় তাদের অনেককে আটক করেছে পুলিশ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

গতকাল সারা রাত ধরে পুলিশের সাথে তীব্র এবং সহিংস সংঘর্ষের পর আজ সোমবার ভোরবেলা হংকং পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ১০০ জনের একটি বিক্ষোভকারী দল বেরিয়ে যাবার চেষ্টা করলে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেটের সম্মুখীন হয়। এ নিয়ে তৃতীয়বার তারা ক্যাম্পাস ত্যাগের চেষ্টা করলো।

সেখানকার ঘটনার বেশ কিছু ছবি প্রকিাশিত হয়েছে। যাতে দেখা যাচ্ছে, টিয়ার গ্যাসের ঘন ধোঁয়ার মধ্যে পুলিশ বিক্ষোভকারী ধরে মাটিতে শুইয়ে ফেলেছে। ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারী আছে বলে হংকংয়ের একজন গণতন্ত্রপন্থী এমপি জানিয়েছেন।

পুলিশ এর আগে বলেছিল যে বিক্ষোভকারীরা চিওং ওয়ান রোড সাউথ ব্রিজ, যা ক্যাম্পাস থেকে বেরুনোর আরেকটি পথ, তা দিয়ে তারা বেরিয়ে যেতে পারে, কিন্তু তাদেরকে অস্ত্র ফেলে দিয়ে গ্যাসমুখোশ খুলে ফেলতে হবে।

এর আগে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে এবং নানা জায়গায় আগুন লাগায়। এর আগের খবরে জানা যায়, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চলার সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

Hong-Kong-1.jpg

বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেডের পেছন থেকে পুলিশের দিকে পেট্রল বোমা ও তীর ছুঁড়ে মারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ কর্মকর্তারা এর কিছুক্ষণ আগেই বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি দেয় যে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে পুলিশের ওপর হামলা বন্ধ করা না হলে তারা বিক্ষোভকারীদের দিকে গুলি ছুঁড়বে।

গত কয়েকমাস ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কারণে অস্থিরতা বিরাজ করছে হংকংয়ে। তবে আধা স্বায়ত্তশাসিত এই চীনা নিয়ন্ত্রণাধীন শহরে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে।

গত কিছুদিনে কিছু বিক্ষোভকারী বারবার পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের বিক্ষোভ দমনের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করছে। গত কয়েকদিন ধরেই পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় দখল করে রেখেছে বিক্ষোভকারীরা।

রবিবার বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের টিয়ার গ্যাস ও জল কামানের হামলার জবাব দেয় পেট্রল বোমা, ইটপাটকেল ও তীর ছোঁড়ে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা হাঁটুতে তীরবিদ্ধ হন ।

বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লো কেন
সোমবার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ক্যাম্পাসের দখল নেয়ার জন্য পুলিশ অগ্রসর হতে শুরু করলে বিক্ষোভকারীদের সাথে ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পেট্রল বোমা ছোঁড়ে।

কিছুক্ষণ সংঘর্ষ চলার পর পুলিশ পিছু হটে যায়। ক্যাম্পাসের ভেতরে তখন শত শত বিক্ষোভকারী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস দখল করে রাখা শিক্ষার্থীদের রবিবার সন্ধ্যার মধ্যে ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে বলা হলেও অনেকেই এখনো ক্যাম্পাসে রয়েছেন।

পুলিশের মুখপাত্র লুইস লাউ ফেসবুকে প্রকাশিত এক বক্তব্যে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তারা যদি পুলিশ কর্মকর্তাদের দিকে পেট্রল বোমা, তীরের মত বিপজ্জনক অস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রাখে তাহলে আমাদের গুলি করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।’

Hong-Kong-1.jpg

পুলিশকে সরিয়ে রাখতে বিক্ষোভকারীরা ক্যাম্পাসের প্রবেশপথে আগুন জ্বালিয়ে বাধা তৈরি করার চেষ্টা করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে, ক্যাম্পাস অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে অনুরোধ করে।

গত শনিবার চীনা সৈন্যরা টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে রাস্তায় বিক্ষোভের ধ্বংসস্তূপ পরিস্কার করে এবং ব্যারিকেড সরিয়ে দেয়। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম হংকংয়ে থাকা চীনা সৈন্যদের, যারা সাধারণত ব্যারাক ছেড়ে বের হয় না, তাদের রাস্তায় দেখা গেলো।

কেন শুরু হলো বিক্ষোভ
হংকংয়ের মানুষকে চীনের কাছে প্রত্যর্পন করা হবে এমন সরকারি একটি বিলের বিরোধিতা করতে গিয়ে কয়েক মাস আগে হংকংয়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত। বিলটিতে বলা ছিল, কোনো অপরাধী ব্যক্তিকে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চীনের মূল ভূখণ্ডে হস্তান্তর করা যাবে।

হংকং চীনের অংশ হলেও এই স্থানটি বিশেষ স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে। কিন্তু হংকংয়ের মানুষের মধ্যে এই বোধ তীব্র হচ্ছে যে, বেইজিং তাদের ওপর আরও বেশি মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চায়। বিক্ষোভের কারণে বিতর্কিত বিলটি প্রত্যাহার করেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তবু বিক্ষোভ এখনো চলমান।

এখন যারা আন্দোলন করছে তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সকল নাগরিকের ভোটাধিকার। এছাড়া বিক্ষোভে পুলিশী সহিংসতার স্বাধীন তদন্ত এবং গ্রেফতারকৃত আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছে তারা। তাদের রাজনৈতিক এই কর্মসূচি বিশ্বের অন্য প্রান্তের দেশকেও উদ্বুদ্ধ করেছে।

সূত্র : বিবিসি

এসএ/এমএস