ইরানের তীব্র সমালোচনায় সৌদি বাদশাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:২১ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৯

রিয়াদের চিরবৈরী প্রতিদ্বন্দ্বী ও আঞ্চলিক শত্রু ইরানের ব্যাপক সমালোচনা করেছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল-সৌদ। বুধবার দেশটির শুরা কাউন্সিলের এক বৈঠকে তেহরানকে আক্রমণ করে সৌদি এই বাদশাহ বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়ে রিয়াদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ করতে ব্যর্থ হয়েছে ইরান। হুমকির সুরে দেশকে রক্ষায় যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে রিয়াদ দ্বিধা করবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শুরা কাউন্সিলের ওই বৈঠকে আট মিনিটের ভাষণে সৌদি বাদশাহ বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই তেহরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক হস্তক্ষেপ থামাতে হবে। তিনি বলেন, ইরানের সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা এবং ধ্বংসযজ্ঞ থামানোর সময় এসেছে।

শুরা কাউন্সিল ও রাজপরিবারের সদস্য এবং বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্দেশে বাদশাহ সালমান বলেন, ‘সৌদি আরব যেভাবে ২৮৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৮৯টি ড্রোন হামলার লক্ষ্য হয়েছে, বিশ্বের কোনো দেশই তার মুখোমুখি হয়নি। এসব হামলা সৌদি আরবের উন্নয়ন প্রক্রিয়া অথবা নাগরিক ও বাসিন্দাদের জীবন-যাপনে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারেনি।

‘আমরা আশা করছি, ইরানের শাসকগোষ্ঠী বিচক্ষণতার পথ বেছে নেবেন এবং তারা উপলব্ধি করতে পারবেন যে সম্প্রসারণবাদী এবং ধ্বংসাত্মক চিন্তাভাবনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অবস্থান কাটিয়ে ওঠার কোনও উপায় নেই। বরং শাসকগোষ্ঠীর এই নীতির কারণে দেশটির নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।’

সৌদি আরবের এই বাদশাহ আরও বলেন, বিশ্বের শীর্ষ তেল রফতানিকারক দেশ হিসেবে আমাদের নীতি হলো বিশ্ব তেল বাজারকে স্থিতিশীল রেখে এগিয়ে নেয়া। গত সেপ্টেম্বরে তেলক্ষেত্রে হামলার ঘটনার পর রাষ্ট্রীয় তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরামকো অল্প সময়ের মধ্যে তেল উৎপাদন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশংসা করেন তিনি।

সৌদির এই তেলক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরের ওেই হামলার পর বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। বাদশাহ সালমান বলেন, বিশ্বে যেকোনো ধরনের পরিস্থিতিতে তেলের ঘাটতি তৈরি হলে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে তা পূরণ করতে সক্ষম। আর এটি প্রমাণ করেছে আরামকো।

সুন্নি মুসলিম অধ্যুষিত সৌদি আরব এবং শিয়া-মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানের মধ্যে কয়েক দশক ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে আসছে। এর নেপথ্যে রয়েছে ওই অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং ধরে রাখার লড়াই। আধিপত্যের এই লড়াইয়ে প্রতিনিয়ত পরস্পরের বিপক্ষ শক্তিগুলোকে সমর্থনও দিয়ে আসছে সৌদি-ইরান।

সূত্র : রয়টার্স, আলজাজিরা।

এসআইএস/পিআর