বকেয়া থাকায় শিশুর লাশ আটকে দিল হাসপাতাল, অতঃপর…

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৫৮ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৯

ছোট্ট শিশুটি বেশি অসুস্থ হওয়ায় দরিদ্র বাবা-মা তাকে সরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলেন। কিন্তু সন্তান শেষ পর্যন্ত বাঁচেনি। বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও শিশুটির মরদেহ দিচ্ছে না। অবশেষে শহরে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল-ট্যাক্সি চালকদের মানবিক সাহায্যে শিশুটির লাশ পেয়েছে তার পরিবার।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার পেদাং শহরের একটি হাসপাতালে আলিফ পুতর নামে ছয় মাস বয়সী ওই শিশুর মৃত্যু হয়। কিন্তু সন্তানের লাশ নিতে পরিবারটির কাছে ২৫ মিলিয়ন ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া (দেড় লাখ টাকা) দাবি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পরিবারটির তা দেয়ার সামর্থ্য ছিল না।

বকেয়া শোধ করতে না পারায় আলিফের লাশ মর্গে আটকে রাখে পেদাং শহরের এম জাজিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে শিশুর লাশ আটকে রাখার এই খবর পেয়ে শহরটিতে যারা ভাড়ায় মোটরসাইকেল ও ট্যাক্সি চালান তারা মানবিক সাহায্যের জন্য হাসপাতাল অভিমুখে রওয়ানা দেন।

এ নিয়ে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল ও ট্যাক্সি চালকরা দল বেঁধে হাসপাতালের সামনে ভিড় করে মর্গ থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করেন। লাশ উদ্ধারের পর মোটরসাইকেল বহর নিয়ে তারা করে বের হয়ে আসেন হাসপাতাল থেকে। তখন মোটরসাইকেল চালকদের একজনের একহাতে শিশু আলিফের লাশটি দেখা যায়।

আলিফের এক চাচাও ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান। তিনি প্রথম এই খবর অন্যান্য চালকদের জানিয়ে তাদের কাছে এ ব্যাপারে সাহায্য চান। তারা ঘটনা শুনেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল থেকে আলিফের লাশ বের আনার পরিকল্পনার কথা জানালে সবার অংশগ্রহণে পরিবারটি তাদের সন্তানের লাশ ফেরত পায়।

ওয়ার্দিয়ানসিয়াহ নামে চালক বলেন, ‘অসহায় পরিবারটির পক্ষে এত টাকা দেয়া সম্ভব ছিল না। আলিফের চাচার মাধ্যমে আমরা এমন কথা জানার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে হাসপাতালে ঢোকার সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আমাদের বাধা দিয়েছিল। কিন্তু সংখ্যায় বেশি বলে আমাদের আটকাতে পারেনি তারা।’

আলিফের মা দেবী সূর্য বলেন, ‘আমাদের কাছে পাওনা টাকাটা চেয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আমরা তা দিতে অসমর্থ হওয়ায় তারা আমার সন্তানের লাশ আটকে রেখেছিল। খবর পেয়ে চালকেরা খেপে যান। তারা জোর করে আলিফকে মর্গ থেকে নিয়ে আসেন। আমার সন্তানকে মর্গে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে।’

Alifঅশ্রুসিক্ত আলিফের মা দেবী সূর্য

শুধু মৃত নয় জীবিত নবজাতকদের চিকিৎসার বিল পরিশোধ করতে না পারায় ইন্দোনেশিয়ার হাসপাতালে এর আগেও এমনটা ঘটেছে। তাই এবারের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে তা ভাইরাল হয়ে যায়। যারা সন্তানের চিকিৎসার বিল পরিশোধ করতে পারেন না তাদের কী হবে এমন প্রশ্ন তোলেন সবাই।

হাসপাতালটির পরিচালক ইউসিরওয়ান ইউসুফ অবশ্য ঘটনাটিকে ভুল-বোঝাবুঝি বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, আলিফের পরিবারের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে তারা জানতেন না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিসেবে তিনি ক্ষমা চেয়ে এমনটা আর হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে চালকদের এই কাজকে বেপরোয়া ও বিপজ্জনক বলেছেন তিনি।

এসএ/এমকেএইচ