ফিলিপাইনে কামুরির আঘাতে নিহত ২, দুই লক্ষাধিক ঘরছাড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:১০ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯

ফিলিপাইনে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন কামুরি। প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় ১৭০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানে। কামুরির আঘাতে বাড়িঘর ভেঙে গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে আঘাত হানা ঝড়ের কারণে ভূমিধসে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন।

আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী ফিলিপাইনের আবহাওয়া ব্যুরো জানিয়েছে, কামুরির আঘাতে রাজধানী ম্যানিলাসহ আশপাশের প্রদেশগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। ঘরবাড়ি ছাড়তে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ, বাতিল করা হয়েছে কয়েকশ ফ্লাইট।

আগামী বৃহস্পতিবার দেশটিরে উপকূল পাড়ি দিয়ে মূল ভূখণ্ডে শক্তিশালী এই টাইফুন আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার ঘণ্টায় একটানা সর্বোচ্চ ১৫৫ কিলোমিটার বাতাসের বেগ নিয়ে টাইফুনটি সোরসোগোন প্রদেশে আঘাত হানে, যা দমকা হওয়া আকারে ঘণ্টায় ২৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল

ক্যাটাগরি ৪ এর এই টাইফুনের আঘাতে গাছপালা ভেঙে পড়েছে। আর গতিপথে যত যানবাহন পেয়েছে সব উল্টে গেছে এর বাতাসের তোড়ে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছে ইতোমধ্যে ১ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। নিহত দুজনের মধ্যে একজনের মাথায় গাছ ভেঙে পড়েছিল।

আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) চেয়ারম্যান ডিক গর্ডন এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘প্রথামিকভাবে বাতাসে তোড়ে বাড়িঘর উড়িয়ে নিয়ে যাওয়াসহ বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাস্তাঘাত বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। ম্যানিলার মতো জনবহুল এলাকায় যদি টাইফুনটি আঘাত হানে তাহলে বন্যাও দেখা দিতে পারে।’

আলবে প্রদেশের লেগাজপি বিমানবন্দওর মারত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর একটি ছাদ উড়িয়ে নিয়ে গেছে কামুরির প্রবল বাতাস। বেশ কিছু জানালাও ভেঙে গেছে। গর্ডন বলেন, মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। রাস্তাঘাটও আবর্জনা দিয়ে পূর্ণ হয়ে যাবে।

চলতি বছরে ২০টি টাইফুন ফিলিপাইনে আঘাত হানলো। স্থানীয় সময় সোমবার রাতে দেশটির লুজান দ্বীপে এটি আছড়ে পড়লে উপকূলবর্তী ও পাহাড়ি এলাকা থেকে গণহারে লাখ লাখ মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে পারাতে বাধ্য করে। ম্যানিলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছে।

এসএ/এমকেএইচ