‘ধর্ষকদের গুলি করে মারা হোক’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৫৩ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

ভারতের উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ে ধর্ষণ মামলার শুনানিতে যাওয়ার সময় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে পুড়িয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার চেয়েছেন ওই তরুণীর বাবা। আর এ জন্য হায়দরাবাদের আলোচিত ধর্ষণ ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তরা যেভাবে পুলিশি অভিযানে মারা গেছেন; ঠিক একই ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার উন্নাওয়ের ওই তরুণীর বাবা বলেন, সরকারের কাছে আমাদের শুধুমাত্র একটি চাওয়া- অভিযুক্তদের দ্রুত সাজা দেয়ার ব্যবস্থা হোক। কয়েকদিনের মধ্যে হায়দরাবাদে যা ঘটেছে এখানেও সেটি হোক। আমরা দাবি জানাচ্ছি, যে অভিযুক্তরা আমার মেয়েকে পুড়িয়েছে; এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কিংবা গুলি করে মারা হোক।

তেলেঙ্গানায় গত সপ্তাহে এক পশু চিকিৎসক তরুণীকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় শুক্রবার অভিযুক্তদের নিয়ে তদন্তে নামে রাজ্য পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত চার ধর্ষক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় তারা। উন্মাওয়ের ওই তরুণীর বাবাও তার মেয়ের খুনীদের একই ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, তার মেয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় বলেছেন, রায়বেরিলিতে ধর্ষণ মামলার শুনানিতে অংশ নেয়ার জন্য ট্রেনে করে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার ধর্ষণ মামলার দুই আসামিসহ পাঁচজন তাকে ঘিরে ধরে প্রথমে লাঠিপেটা করে। পরে গলায় ছুরিকাঘাতের পর পেট্রোল ঢেলে শরীরে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় আসামিরা।

মাত্র পাঁচদিন আগে ধর্ষণ মামলায় জামিন পেয়েছিলেন শিবাম ত্রিবেদী নামের এক অভিযুক্ত। ওই তরুণীকে মারধরের পর আগুন ধরিয়ে দেয়ার সময় সেখানে উপস্থিত ছিল এই আসামি।

ওই তরুণীর বাবা বলেন, ট্রেনে নাকি বাসে যাচ্ছিলেন সেকথা জানাতে পারেনি তার মেয়ে। ভোরবেলা আমাদের না জানিয়ে সে চলে যায়...প্রধান সড়কে পৌঁছানোর পর তাকে লাঠিপেটা করে অভিযুক্তরা। পরে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় তারা। শরীরে আগুন নিয়েই প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা দৌঁড়ে পুলিশকে কল দেয় সে।

হামলা হওয়ার একদিন আগেই মামলার প্রধান আসামি হুমকি দিয়েছিলেন বলে জানান মেয়েটির বাবা। মেয়ে এবং তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে অথবা গুলি করে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছিল অভিযুক্ত ধর্ষক।

মেয়েটির বাবা বলেন, ধর্ষণের ঘটনার প্রায় চারমাস পর এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের কথা শোনেনি। অভিযুক্তরা পুলিশকে ঘুষ দিয়েছিল।

সূত্র : এনডিটিভি।

এসআইএস/জেআইএম