ব্রিটেনের এক-তৃতীয়াংশ শিশুর ধারণা গরু ডিম পাড়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৪ এএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে একজন শিশুর হাতে স্মার্টফোন দিয়ে দেবেন। দেখবেন, সে অনায়াসেই গেমস খেলছে, ইউটিউব চ্যানেলে ঢুকে কার্টুন দেখছে। বলতে গেলে তিন বছরের ঊর্ধ্বের সব শিশুই এখন এভাবে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু সেই শিশুকে যদি জিজ্ঞাসা করেন, ডিম কোথা থেকে আসে এবং সে যদি বলে, গরু ডিম দেয়, তাহলে কিন্তু অবাক হবার কিছু নেই।

ব্রিটেনের এক জরিপ বলছে, সেখানকার এক-তৃতীয়াংশ শিশু, যাদের বয়স ৬-১১ বছরের মধ্যে, তারা মনে করে গরু ডিম পাড়ে। সম্প্রতি এক জরিপে খাদ্যের উৎস সম্পর্কে ব্রিটেনের শিশুদের এমন অবাক করার তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রাইমারি পর্যায়ের বিভিন্ন স্কুলের এক হাজার শিশু শিক্ষার্থীর ওপর এ জরিপ চালানো হয়। জরিপে দেখা গেছে, সেখানকার প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন শিশু বলছে, গরু ডিম পাড়ে! আবার কেউ কেউ বলছে, বেকন (শূকরের মাংসের তৈরি এক ধরনের খাবার) পাওয়া যায় ভেড়া থেকে। বেশিরভাগ বাচ্চার মাছ সম্পর্কেও জ্ঞান নেই।

এক হাজার শিশু শিক্ষার্থীর খাদ্যের উৎস সম্পর্কে জ্ঞান যাচাই করতে জরিপের আয়োজন করেছিল একটি ডেইরি ফার্ম। সেখানেই খাদ্যের উৎস সম্পর্কে বাচ্চাদের এমন নড়বড়ে জ্ঞান প্রকাশ পায়। মাছ-মাংস ও সবজির উৎস সম্পর্কে বেশিরভাগ বাচ্চার জ্ঞান চমকে দেয়ার মতো।

জরিপের দায়িত্বে ছিলেন গবেষক ফিল গিবসন। জরিপে চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি স্কুলে বাচ্চাদের স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে বলা হয়। তবে সেইসব স্বাস্থ্যকর খাবারের উৎস সম্পর্কে জানানো হয় না। ফলে বাচ্চারা জানতেই পারে না দুধ বা দইয়ের আসল উৎস কী! বাচ্চারা এটাও জানতে পারছে না যে, কোন খাবার কোন পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ।’

এর আগেও ব্রিটিশ নিউট্রিশন ফাউন্ডেশন ২৭ হাজার ৫০০ শিশুর মধ্যে একটি জরিপ চালায়। সেখানেও প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন বলেছিল, পনির গাছ থেকে উৎপন্ন হয়। এসব বাচ্চাদের গড় বয়স ছিল ছিল ৮-১০ বছর।

কিন্তু কেন খাবারের উৎস সম্পর্কে এমন নড়বড়ে জ্ঞান তাদের! প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অধিকাংশ বাচ্চা জানেই না, দই কীভাবে উৎপন্ন হয়! তবে সমীক্ষায় অংশ নেয়া বাচ্চাদের মধ্যে যাদের বাড়ি গ্রামে, তাদের খাবারের উৎস সম্পর্কে জ্ঞান অবশ্য বাকিদের থেকে ভালো।

এসআর/এমএস