ন্যায়বিচার চায় রোহিঙ্গারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০১ পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে রোহিঙ্গা মুসলিমরা। রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু হচ্ছে আজ। এই শুনানি তিনদিন চলার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই মিয়ানমারের পক্ষে শুনানিতে অংশ নিতে হেগেতে অবস্থান করছেন মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি।

রোহিঙ্গা গণহত্যায় অভিযুক্ত মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর পক্ষে সাফাই দেবেন শান্তিতে নোবেল জয়ী এই নেত্রী। এক সময় গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা এই নেত্রী তার দেশের সামরিক বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ দেখেও নিশ্চুপ থেকেছেন। কখনও এর বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য দেননি।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিরুদ্ধে মামলা করে গাম্বিয়া। সেই মামলায় তিনদিনের শুনানিতে অংশ নিয়ে দেশের সামরিক বাহিনীর পক্ষে সু চির অব্স্থানকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তিনি সমালোচিত হয়েছেন।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বেশ কিছু পুলিশ ও সেনা পোস্টে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের ধর্ষণ, হত্যা ও তাদের বাড়ি-ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

জাতিসংঘের এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী সেখানে জাতিগত নিধন চালিয়েছে। তবে মিয়ানমারের তরফ থেকে বরাবরই এই অপরাধের কথা অস্বীকার করা হয়েছে। দেশটির তরফ থেকে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে শতাধিক গ্রামে সেনা অভিযান চালানো হয়েছে।

সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। বাংলাদেশের শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে এসব রোহিঙ্গা। অধিক জনসংখ্যা নিয়ে বিপাকে থাকা বাংলাদেশ বহুদিন ধরেই এসব রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে।

মোহাম্মদ জোবায়ের (১৯) নামের এক রোহিঙ্গা মুসলিম বর্তমানে শরণার্থী কেন্দ্রে আছেন। তিনি বলেন, আমাদের চোখের সামনেই ধর্ষণ, নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে। আমরা আমাদের চোখের সামনেই বহু মানুষকে মরতে দেখেছি।

তিনি আরও বলেন, যখন আমাদের বাড়ি-ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে তখন আমাদের পালানো ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। এখন মিয়ানমারকে এই ঘৃণ্য অপরাধের জন্য সাজার মুখোমুখি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এটাই সঠিক সময়। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর জন্য মিয়ানমারকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, আমরা শুনানির জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। তবে আমরা জানি না যে এই শুনানি আমরা শুনতে পারব কীনা। কারণ এখানে ইন্টারনেট সেবা খুবই দুর্বল।

টিটিএন/পিআর