দূষণে আয়ু কমছে, ফাঁসি দিয়ে লাভ কী? আদালতে প্রশ্ন ধর্ষকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৩১ এএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

সাত বছর আগে ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বরের মর্মান্তিক স্মৃতি আজও ভুলতে পারেনি ভারতের মানুষ। চলন্ত বাসে নির্মমভাবে গণধর্ষণের পর দিল্লির নির্ভয়ার ওপর চালানো হয়েছিল অত্যাচার। এরপর চলন্ত বাস থেকে তাকে ছুঁড়ে ফেলা হয়। প্রথমে দেশে, পরে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে ১৬ দিন চিকিৎসাধীন শেষে মারা যান নির্ভয়া।

ওই ঘটনায় ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ভারতের শীর্ষ আদালত। মোট ছয়জনের মধ্যে একজন শিশু থাকায় তাকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি পাঁচজনের মধ্যে একজন কারাগারেই আত্মহত্যা করে।

এদিকে নিজের মৃত্যুদণ্ড এড়াতে এবার ‘দিল্লির দূষণ’কে কাঠগড়ায় তুললেন নির্ভয়ার ধর্ষক অক্ষয় কুমার। ক্ষমা বা প্রাণ ভিক্ষা নয়, নতুন করে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তার যুক্তি, ‘দিল্লির দূষণে তো এমনিতেই তার আয়ু কমছে। তাহলে ফাঁসি দিয়ে লাভ কী!’ রিভিউ পিটিশনে এমন নজিরবিহীন যুক্তিতে হতবাক আইনজীবী মহল।

মরণপণ লড়াইয়ে হেরে যাওয়া নির্ভয়া নামে পরিচিতি মেয়েটির আসল নাম জ্যোতি সিং। ভারতের উত্তরপ্রদেশের ২৩ বছরের এ তরুণী দিল্লিতে ফিজিওথেরাপি নিয়ে পড়াশোনা করতেন। ধর্ষণের ঘটনার পর গোটা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ঝড় ওঠে সংসদের ভেতরে-বাইরেও।

এদিকে ফাঁসি দণ্ডপ্রাপ্ত ধর্ষক অক্ষয় কুমার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলেও তাতে কোনো লাভ হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভারতের সংবাদ মাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছে, এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য ইতোমধ্যে ফাঁসির দড়ি প্রস্তুত করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১২ সোলের ১৬ ডিসেম্বর ঘটা ওই ঘটনার দিন অর্থাৎ আগামী ১৬ ডিসেম্বরই রায় কার্যকর হতে পারে।

আরএস/জেআইএম