অগ্নিগর্ভ আসামে কারফিউ উপেক্ষা করে রাজপথে হাজারও মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:০৮ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯

ভারতের সংসদের উভয় কক্ষে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর অগ্নিগর্ভ আসামে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন, সেনাবাহিনী মোতায়েন ও কারফিউ জারি করেছে রাজ্য সরকার। তবে আসামের বিক্ষুব্ধ হাজার হাজার মানুষ বৃহস্পতিবার কারফিউ উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ-সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভ থামাতে রাজ্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। গুয়াহাটি পুলিশের প্রধানকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আসামের ১০ জেলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে রাজ্যের অন্তত চারটি স্থানে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এসব এলাকায় সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া রাজ্যের উত্তরপূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। আসাম ও ত্রিপুরার মধ্যে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে; থমকে গেছে আকাশপথও। গুয়াগাটি ও দিব্রুগড়গামী বিভিন্ন সংস্থার বিমানের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।

assam-1

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামেশ্বর তেলিসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার বাসভবনে হামলা করেছে বিক্ষোভকারীরা। তবে আসামে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে একটি টুইট করেন। টুইটে তিনি বলেন, আপনাদের অধিকার কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল রাজ্যের বাসিন্দাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিজেপির জেলা পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে যা তথ্য রয়েছে, তাতে এ রাজ্যে পাঁচ লাখের বেশি অনুপ্রবেশকারীকে নাগরিকত্ব দেয়া হবে না। তাই আমাদের সংস্কৃতির এবং ঐতিহ্যের কোনো সঙ্কট দেখা দেবে না।’

আনন্দবাজার বলছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে বুধবারই জ্বলে ওঠে আসাম। সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন গতকাল থেকে। আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু) এবং কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি (কেএমএসএস)। সাধারণ মানুষকে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছে তারা। তাদের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে কারফিউ উপেক্ষা করে রাজপথ দখলে নিয়েছে হাজার হাজার মানুষ।

assam-1

অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। বেলা ১১টায় গুয়াহাটির লতাশীল ময়দানে জমায়েত রয়েছে। এ জন্য সকলকে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নামার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।’

গতকাল বিক্ষোভ চলাকালীন ডিব্রুগড়ের ছাবুয়ার একটি রেলস্টেশন চত্বরে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। তিনসুকিয়ার পানিতোলা স্টেশন চত্বরেও আগুন দেয়া হয়। যে কারণে আসামে সব ধরনের লোকাল ট্রেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ডিব্রুগড় থেকে দূরপাল্লার ট্রেনও বন্ধ রাখা হয়েছে।

এসআইএস/এমকেএইচ