লিবিয়ায় সেনা পাঠাচ্ছে তুরস্ক, সংঘাত বৃদ্ধির শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৪৭ পিএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

ভূমধ্যসাগর উপকূলবর্তী দেশ লিবিয়ায় সেনা পাঠানোর ব্যাপারে তুরস্ক ও লিবিয়া সরকারের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের পক্ষে লড়তে তুরস্ক সেনা পাঠানোর ব্যাপারে আগ্রহী। তবে তুর্কি সহায়তায় বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাত বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষ আরও খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এমন পদক্ষেপের কারণে উত্তর লিবিয়ার সামরিক ভূমিপুত্র খলিফা হাফতারের বাহিনীর সঙ্গে লিবিয়া সরকারের সামরিক সংঘাত আরও বাড়বে। হাফতার এখন জাতীয় সংহতির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে লিবিয়া অভিমুখে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

হাফতার বাহিনীকে এই লড়াইয়ে সমর্থন দিচ্ছে প্রতিবেশী মিসর ও পারস্য উপসাগর সংলগ্ন দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। ফলে তুরস্কের সমর্থনে লিবিয়া সরকার হাফতার বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে এই দুই দেশও তাতে যোগ দিবে। ফলে বৃহৎ এক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে তুরস্কের সঙ্গে লিবিয়া সরকারের একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মাধ্যমে লিবিয়া সরকার তুরস্ককে দেশটিতে সেনা পাঠানোর অনুরোধ করতে পারবে। লিবিয়াকে পুলিশ, সামরিক, গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা সহায়তা দেয়ার বিষয় নিয়ে চুক্তিটি গতকাল শনিবার তুর্কি পার্লামেন্টে উত্থাপিত হয়েছে।

লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত ফয়েজ আল সিরাজ সরকারের হাতে এখনো সীমিত সংখ্যক ড্রোন এবং অস্ত্র সরঞ্জাম আছে। যদি তুরস্ক ত্রিপোলিতে তাদের সেনা পাঠায় তাহলে এই ঘাটতি পূরণ হবে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া সম্প্রতি ত্রিপোলিতে আমিরাতে দুটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।

কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত একটি কূটনৈতিক সম্মেলনের ফাঁকে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকার লিবিয়ার সরকারপ্রধান সিরাজের সঙ্গে আলোচনা করেন। সেখানে তুরস্ক জানায়, লিবিয়ার কাছ থেকে সেনা পাঠানোর আনুষ্ঠানিক অনুরোধ না পেলেও সবচেয়ে সহজ উপায়ে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দেয়।

এদিকে সেনা পাঠানোর ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর লিবিয়ার উপকূলবর্তী শহর মিসরাটায় বোমা হামলা করে সেনা ও অস্ত্র সরঞ্জাম না পাঠানোর ব্যাপারে তুরস্ককে হুঁশিয়ার করেছে আরব আমিরাত ও মিসর সমর্থিত খলিফা হাফতারের বিমানবাহিনী।

তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করছে, জাতিসংঘ তাদের অনুসন্ধানে এমন তধ্যের সতত্যা পেলেও দুই দেশের কেউই তা মানছে না বলে অভিযোগ। তুর্কি সরকার এ ব্যাপারে খুব দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ যে তারা ত্রিপোলিকে আমিরাত সমর্থিত হাফতার বাহিনীর হাতে চলে যেতে দেবে না।

এসএ/জেআইএম