পশ্চিমবঙ্গে স্কুলে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা পুলিশ কর্মকর্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:১৮ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২০

স্কুলের মধ্যে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর২৪ পরগনার বসিরহাটের হাড়োয়া থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় হাড়োয়া থানার মোহনপুর।

পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশের ওই কর্মকর্তাকে স্কুলের মধ্যে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়। পুলিশ বাহিনী গিয়ে প্রায় আট ঘণ্টার চেষ্টায় শুক্রবার দিবাগত মাঝরাতে তাকে উদ্ধার করে।

অপরদিকে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। সেইসঙ্গে রাস্তাঘাট অবরোধ করেন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় লাঠিসার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।

জাহাঙ্গীর হোসেন নামের ওই অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনসপেক্টর (এএসআই) এই মুহূর্তে বসিরহাট হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

খবরে বলা হয়েছে, মোহনপুরের বাছড়া এম.সি.এইচ হাই স্কুলে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ছাত্র ও যুব উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া ওই উৎসবের শেষ দিন ছিল শুক্রবার। অনুষ্ঠান উপলক্ষে ওই স্কুলেই ডিউটি পড়ে হাড়োয়া থানার এএসআই জাহাঙ্গীরের। শুক্রবার সকাল থেকেই তার সঙ্গে ওই স্কুলের একাদশ শ্রেণির দুই ছাত্রীকে বেশ কয়েকবার কথা বলতে দেখা যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। কারণ হিসাবে তারা জানান, ওই দুই ছাত্রীর ইচ্ছা সিভিক ভলান্টিয়ার হওয়ার। সে বিষয়ে পরামর্শ নিতে তারা কথা বলেছিল ওই এএসআইয়ের সঙ্গে।

অভিযোগ, সন্ধ্যার দিকে অনুষ্ঠান শেষ হতেই জাহাঙ্গীর ওই দুই ছাত্রীর একজনকে স্কুলেরই দোতলার একটি ঘরে ডেকে নিয়ে যান। তারপর ঘরের দরজা বন্ধ করে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

প্রত্যদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ হঠাৎ করেই উপরের ক্লাসরুম থেকে চিৎকার শুনতে পেয়ে স্কুল চত্বরে যারা ছিলেন তারা ছুটে যান। ঘরের দরজা খুলে উদ্ধার করা হয় ওই ছাত্রীকে। জাহাঙ্গীরকে ধরা হয়। তার মধ্যেই অন্যান্য শিক্ষার্থী ও এলাকার বাসিন্দারা পৌঁছে যান স্কুলে। জাহাঙ্গীরকে ধরে শুরু হয় বেধড়ক মারধর। কোনও ক্রমে তাদের হাত ছাড়িয়ে ওই এএসআই প্রথমে স্কুলের অফিসঘরের একটি আলমারির পেছনে লুকিয়ে পড়েন। সেখান থেকেও তাকে টেনে বের করা হয়। মাটিতে ফেলে শুরু হয় বেধড়ক মার।

খবর যায় হাড়োয়া থানায়। কিন্তু সেখানকার পুলিশ কর্মীরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। তাদের উদ্দেশে ছোড়া হয় ইট-পাটকেল। ঘিরে ফেলা হয় পুলিশকর্মীদের। এরপর রাতের দিকে মাটিয়া, বসিরহাট ও মিনাখা থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী যায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল চলতে থাকে অবিরত। ভাঙচুর চালানো হয় পুলিশের গাড়িতে। আগুন লাগানোর অভিযোগও ওঠে। জ্বালিয়ে দেয়া হয় একটি মোটরসাইকেল। পরে রাতে বসিরহাটের এসডিপিও ঘটনাস্থলে যান। পৌঁছান বসিরহাট পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। গভীর রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বসিরহাট পুলিশ জেলার এসপি কঙ্করপ্রসাদ বারুই। তার উদ্যোগে রাত প্রায় ২টা নাগাদ জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে পাঠানো হয় বসিরহাট হাসপাতালে। এই ঘটনায় আহত হন বেশ কয়েক জন পুলিশ সদস্য।

শনিবার সকাল থেকে আবারও উত্তেজনা ছড়ায় ওই এলাকায়। অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর কড়া শাস্তির দাবিতে করা হয় রাস্তা অবরোধ। বিকেলে পুলিশ গিয়ে অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বললে অবরোধ তুলেন নেন আন্দোলনকারীরা।

বসিরহাটের এসপি কঙ্করপ্রসাদ বারুই বলেন, ‘এলাকা আপাতত শান্তা। কোথাও কোনও সমস্যা নেই। ওই এএসআইয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ আনন্দবাজার

জেডএ/পিআর