৬ বছরে ১৭২ বাংলাদেশি ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছেন: সীতারমণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৫৬ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

গত ছয় বছরে ১৭২ বাংলাদেশিকে ভারতের নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। তিনি বলেছেন, গত ছয় বছরে ২ হাজার ৮৩৮ জন পাকিস্তানি শরণার্থী, ৯১৪ জন আফগান শরণার্থী ও ১৭২ জন বাংলাদেশি শরণার্থীকে ভারতের নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে মুসলমানও রয়েছেন। এছাড়া ১৯৬৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৪ লাখেরও বেশি তামিলকে (শ্রীলঙ্কার জাতি) নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিষয়ে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন বিজেপি সরকারের এ মন্ত্রী। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কথিত অনুপ্রবেশকারী শনাক্ত করতে নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) তৈরি ও ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দিতে সিএএ পাসের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারতের নরেন্দ্র মোদির সরকার। এনআরসি-সিএএ’র বিষয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে যেসব সংখ্যালঘু (অমুসলিম) পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেবেন, তাদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে এবং অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা হবে। সমালোচকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ বহুজাতি ও সংস্কৃতির ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে। এনআরসি-সিএএ’র বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ রক্তপাত ঘটিয়েছে, ঘটিয়েছে প্রাণহানিও

কিন্তু এনআরসি-সিএএ’র সাফাই গেয়ে নির্মলা সীতারমণ বলেন, ২০১৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা ৫৬৬ জন মুসলমানকে নাগরিকত্ব দিয়েছে ভারত। মোদি সরকারের অধীনে ২০১৬-১৮ মেয়াদেও প্রায় ১৫৯৫ পাকিস্তানি এবং ৩৯১ জন আফগান মুসলমান নাগরিকত্ব পেয়েছেন। ২০১৬ সালেই আদনান সামিকে (পাকিস্তানের) ভারতের নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছিল।

ভারতীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) থেকে আসা মানুষেরা দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পে আবাস গড়েছে। ৫০-৬০ বছর হয়েছে গেছে, তারা এখনো এখানে। যদি ওইসব ক্যাম্পে যান, আপনার হৃদয় কেঁদে উঠবে। শ্রীলঙ্কান শরণার্থীদেরও একই অবস্থা, যারা ক্যাম্পে জীবনযাপন করছে। তারা ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা থেকেও বঞ্চিত।

তিনি বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন হয়েছে মানুষকে আরও ভালো জীবনমান দেয়ার জন্য। আমরা কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নিচ্ছি না, আমরা সেটি দিচ্ছি।

এই বিজেপি নেতা বলেন, জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনপিআর) প্রতি ১০ বছর পরপর হালনাগাদ করা হবে। এর সঙ্গে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু লোক মিথ্যা অভিযোগ করছে এবং জনতাকে অহেতুক উসকানি দিচ্ছে।

এইচএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]