চীনা প্রেসিডেন্টকে ‘শিট হোল’ বলে ক্ষমা চাইলো ফেসবুক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:১৮ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর নাম বার্মিজ ভাষা থেকে ইংরেজিতে ‘অশালীন’ (শিট হোল) অনুবাদের ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। চীনের প্রেসিডেন্ট শি তিনদিনের সফরে এখ মিয়ানমারে। তার সফরের দ্বিতীয়দিন গতকাল শনিবার ফেসবুকে এই ভুল অনুবাদের বিষয়টি নজরে আসে।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গতকাল শনিবার মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা করেন তারা। ওই বৈঠকের বিষয়ে বার্মিজ ফেসবুক পোস্টে চীনা প্রেসিডেন্টের নাম ইংরেজিতে ভুল অনুবাদ করা হয়।

শি জিনপিংয়ের নাম বার্মিজ ভাষা থেকে ইংরেজি অনুবাদে ‘মিস্টার শিটহোল’ দেখানোর ঘটনাকে কারিগরি ত্রুটি অভিহিত করে মারাত্মক এ ভুলের জন্য তার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। শিট হোল অর্থাৎ ‘মল ভর্তি গর্ত’ এবং এই অনুবাদটি পোস্ট করা হয়েছে অং সান সু চি ও তার কার্যালয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে।

মারাত্মক এই ভুলের জন্য শনিবার বিবৃতি দিয়ে ফেসবুকের মুখপাত্র এন্ডি স্টোন বলেন, ‘ফেসবুকে বার্মিজ ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদের ক্ষেত্রে কারিগরি যে ত্রুটি ছিল সেটা আমরা ঠিক করে ফেলেছি। এরকম হওয়া ঠিক হয়নি। এরকম যাতে ফের না ঘটে সেজন্যে আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

Xi Xinping

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানায় অনুবাদে চীনা প্রেসিডেন্টের নাম নাম ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এই ডাটাবেজে কোন শব্দ না থাকলে ফেসবুক সেটা অনুমান করে অনুবাদ করে। তা করা হয় শব্দটির ছন্দের সঙ্গে মিলে এরকম আরেকটি শব্দ দিয়ে। প্রসঙ্গত, বার্মিজ ভাষা মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় ও দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের ভাষা।

ফেসবুক তাদের ব্যাখ্যায় বলছে, চীনা প্রেসিডেন্টের নাম অনুবাদ করতে গিয়ে ফেসবুকের ডাটাবেজ ‘শি’ শব্দটির সঙ্গে মিলে যায় এরকম একটি শব্দ ‘শি’ খুঁজে পায়। ওখানে থেকেই চলে আসে ‘শিট হোল শব্দটি। তবে প্রেসিডেন্টের নামের অনুবাদের এই ত্রুটির খবর চীনা সংবাদমাধ্যমে সেন্সর করা হয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক নির্যাতনের বিষয়ে অং সান সু চির নীরবতা এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে তার বক্তব্য তুলে ধরার কয়েক সপ্তাহ পরেই চীনা প্রেসিডেন্ট মিয়ানমারে তার সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। গত দুই দশকে চীনের কোন রাষ্ট্র প্রধানের এটাই প্রথম মিয়ানমার সফর।

এসএ/এমকেএইচ