ই-পাসপোর্ট : র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি ঘটবে কি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:০৯ এএম, ২২ জানুয়ারি ২০২০

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধার ওপর ভিত্তি করে বিশ্ব পাসপোর্ট সূচক তৈরি করে মার্কিন নাগরিকত্ব ও পরিকল্পনা সংস্থা হেনলে অ্যান্ড পার্টনার্স। প্রত্যেক বছর ভ্রমণের সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংরক্ষণকারী আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) তথ্য নিয়ে এ সূচক তৈরি করা হয়।

হেনলে অ্যান্ড পার্টনার্সের শক্তিশালী পাসপোর্টধারী দেশের তালিকায় চলতি বছরে এক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক শক্তিশালী পাসপোর্ট তালিকায় এখন ৯৮ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ

পাসপোর্টের এ র‌্যাঙ্কিং দিয়ে কী বোঝানো হয়? পাসপোর্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো দেশের পাসপোর্টের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে সেই দেশের নাগরিকত্বের মূল্যায়ন করা হয়। পাসপোর্টের এ র‌্যাঙ্কিং দেশের অর্থনীতি, শাসনব্যবস্থা ও দেশের মানুষের অবস্থাসহ অনেকগুলো বিষয় বিবেচনা করে তৈরি করা হয়।

পাসপোর্টের র‌্যাঙ্কিং আসলে বেশকিছু ধারণার ভিত্তিতে করা হয়। কোন দেশের পাসপোর্টের দাম বেশি বা কম, সে বিষয়ে কিছু স্টেকহোল্ডারের মতামতও নেয়া হয়। কোন দেশের পাসপোর্টের মূল্য কত, তা নির্ভর করে ওই পাসপোর্টের কী গুণাগুণ রয়েছে তার ওপর।

বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির বিবিসিকে বলেন, যেমন মনে করেন ব্রিটিশ বা আমেরিকান পাসপোর্ট জাল করা খুব কঠিন, সে তুলনায় বাংলাদেশের পাসপোর্ট জাল করা বেশ সহজ। যে দেশগুলোর পাসপোর্টের মূল্য বেশি, মনে করা হয় যে ওই দেশগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী, তাদের অর্থনীতি ভালো, তাদের শাসনব্যবস্থা ভালো। বিশ্বের কাছে ওই দেশগুলোর একটা ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে।

ই-পাসপোর্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, খুব দ্রুত ও সহজে ভ্রমণকারীরা যাতায়াত করতে পারবেন। ই-গেট ব্যবহার করে তারা যাতায়াত করবেন। ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দরে তাদের ভিসা চেকিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এর মাধ্যমে দ্রুত তাদের ইমিগ্রেশন হয়ে যাবে।

তবে যখন একজন ভ্রমণকারী ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করে যাতায়াত করবেন, সঙ্গে সঙ্গে সেটি কেন্দ্রীয় তথ্যাগারের (পাবলিক কি ডাইরেক্টরি- পিকেডি) সঙ্গে যোগাযোগ করে তার সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবে। ই-গেটের নির্দিষ্ট স্থানে পাসপোর্ট রেখে দাঁড়ালে ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে। থাকবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের ব্যবস্থাও। সব ঠিক থাকলে তিনি ইমিগ্রেশন পেরিয়ে যেতে পারবেন।

passport

তবে কোনো গরমিল থাকলে লালবাতি জ্বলে উঠবে। তখন সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপ করবেন। কারও বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকলে, সেটিও সঙ্গে সঙ্গে জানা যাবে।

ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও) এই পিকেডি পরিচালনা করে। ফলে ইন্টারপোলসহ বিমান ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য যাচাই করতে পারে। এখানে ৩৮টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকায় এ ধরনের পাসপোর্ট জাল করা সহজ নয় বলে মনে করেন তিনি।

পাসপোর্টের র‌্যাঙ্কিং ওপরের দিকে থাকার প্রধান সুবিধা হলো, কোনো দেশের ভিসার জন্য আবেদন করলে কিছুটা নমনীয়ভাবে সেই আবেদন দেখা হতে পারে। র‌্যাঙ্কিংয়ে নিচের দিকে থাকলে ভিসা দেয়ার ক্ষেত্রে পাসপোর্টধারী সম্পর্কে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খোঁজখবর নেয়া থেকে শুরু করে ভিসার আবেদন নাকচও করতে পারে কোনো দূতাবাস।

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ায় এখন মানুষের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি ইমিগ্রেশনে সময় বাঁচবে। যে কারণে ই-পাসপোর্টের কল্যাণে বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এসআইএস/জেআইএম