মানুষ এখনও প্লাস্টিক বোতল চায় : কোকা-কোলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৩৯ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২০

প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের চরম ঝুঁকি সত্ত্বেও এখনই এর ব্যবহার বন্ধ করতে রাজি নয় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কোকা-কোলা। প্রতিষ্ঠানটির হেড অব সাস্টেইনেবলিটি বি পেরেজ বলেছেন, ক্রেতারা এখনও প্লাস্টিক বোতল চান। তাই এই মুহূর্তে এর ব্যবহার বন্ধ করলে ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

বুধবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনে কোকা-কোলার এই কর্মকর্তা এসব কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্লাস্টিক বর্জ্যের অন্যতম উৎপাদনকারী কোকা-কোলা ২০৩০ সাল নাগাদ যতটা সম্ভব প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যদিও পরিবেশবাদীদের দাবি, তাদের এ উদ্যোগের পরও বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য অসংগৃহীতই থেকে যাবে; যা শেষ পর্যন্ত মাটিতে জমা হবে।

কোকা-কোলা প্রতিবছর অন্তত তিন মিলিয়ন টন প্লাস্টিক প্যাকেটজাত পণ্য তৈরি করে, যা প্রতি মিনিটে প্রায় দুই লাখ বোতলের সমান। পরিবেশবাদী দাতব্য সংস্থা ব্রেক ফ্রি ফ্রম প্লাস্টিকের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দূষণকারী ব্র্যান্ড কোকা-কোলা।

তবে বি পেরেজের দাবি, এ অবস্থার আংশিক সমাধান করা যেতে পারে বলে মনে করে তাদের প্রতিষ্ঠান।

coca-cola-2.jpg

ভোক্তার সমন্বয়

২০৩০ সাল নাগাদ কোকা-কোলা তাদের উৎপাদিত প্লাস্টিক বর্জ্যের অন্তত ৫০ শতাংশ পুনর্ব্যবহার করবে বলে জানিয়েছে। এসব বর্জ্য সংগ্রহের জন্য তারা বেশ কিছু এনজিওর সঙ্গে জোটবদ্ধও হচ্ছে।

তবে প্রতিষ্ঠানটির হেড অব সাস্টেইনেবলিটি বলছেন, আন্দোলনকারীদের দাবি সত্ত্বেও তারা এখনই প্লাস্টিক ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে পারবেন না। এতে ক্রেতা হারাতে হতে পারে, যা বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

প্লাস্টিক ব্যবহারের পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি পাল্টা দাবি করেছেন, শুধু অ্যালুমিনিয়াম আর কাঁচের প্যাকেজিং হলে এটি তাদের কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেবে।

‘ভোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করতে না পারলে ব্যবসা আর ব্যবসা থাকবে না। তাই আমরা পণ্য বোতলজাত করার অবকাঠোমো পরিবর্তন করবো, পুনর্ব্যবহার ও উদ্ভাবনে ঝুঁকবো। তবে ভোক্তাদেরও এর সুবিধা দেখাতে হবে। তাহলে তারাও আমাদের সঙ্গে পরিবর্তন হবেন।’

গত বছর ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকপণ্য নিষিদ্ধ করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে রাজি করিয়ে ছেড়েছেন ১৯ বছর বয়সী পরিবেশবাদী মেলাটি উইলসন ও তার বোন ইসাবেল। এ ধরনের আন্দোলনকারীদের দাবি পুরোপুরি মানতে না পারলেও তাদের প্রতি যথেষ্ট সম্মান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বি পেরেজ।

পাশাপাশি, ২০৩০ সালের আগেই কোকা-কোলার পরিবেশগত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর দাবির বিষয়েও একমত তিনি। তবে সেই পরিকল্পনা সফল না হলে কী হবে, তিনি পদত্যাগ করবেন কি না সে বিষয়ে কিছু বলেননি এ কর্মকর্তা।

কেএএ/এসআইএস/এমএস