চীনের রহস্যময় ভাইরাসে মৃত বেড়ে ৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক coronavirus
প্রকাশিত: ০৪:১২ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২০

চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া ফ্লু টাইপের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বুধবার পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। চীনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৪৪০ জন। ভাইরাসটি যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে তার লক্ষ্যে হুবেই প্রদেশ ও তার রাজধানী উহান ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সরকার।

চীনের নাশন্যাল হেলথ কমিশনের সহকারী মন্ত্রী লি বিন সংবাদিকদের বলেছেন, আরও যে ২ হাজার ১৯৭ জন এই রোগের সংস্পর্শে এসেছেন তাদের নিয়েও ধন্দ তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭৬৫ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেই এই রোগ অন্যদের সংক্রমিত করছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সম্প্রতি এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যায় বিশাল পরিবর্তন এসেছে। যা ওই ভাইরাস সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়া, ডায়াগনস্টিক পদ্ধতির উন্নতি সাধন এবং ডায়াগনস্টিক কিটের বিতরণের অনুকূল পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে সহায়তা করছে। তবে চান্দ্রবর্ষের ছুটিতে ভাইরাসটির সংক্রমণ শুরু হওয়ায় এর নিয়ন্ত্রণ বেশ জটিল হয়ে পড়েছে।’

চীন কর্তৃপক্ষ হুবেই প্রদেশ ও রাজধানী উহানে ভ্রমণের ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছে। শহরটিতে প্রায় ৮৯ লাখ মানুষের বাস। মূলত ওই শহরটি থেকেই এই ভাইরাসের উৎপত্তি। এরপর রাজধানী বেইজিংসহ অন্যান্য প্রদেশ এবং প্রতিবেশী থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ানের পর যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে।

ভাইরাসটি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে। বৈঠকে ওই ভাইরাসের সংক্রমণে বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি হবে কিনা তা পর্যালোচনা করা হবে। এদিকে কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও চীন ভাইরাসটির উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে দেশটির সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

চীনের অন্তত ১৫ জন মেডিকেল কর্মীও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো হলো জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট। সেভার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (সার্স) প্রজাতির এই ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়, যা থেকে নিউমোনিয়াও হতে পারে।

২০০২-০৩ সালে চীনে সার্স প্রজাতির এক ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে। তখন ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়। তবে এবারের এই ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করবে কিনা তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে প্রতিদিন যে হারে এ রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন তাতে করে মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এসএ/এমএস