রোহিঙ্গারা নির্যাতনের ঘটনা অতিরঞ্জিত করেছে: সু চি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:১২ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২০

রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনা অতিরঞ্জিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়ার আগেই এই দাবি করলেন তিনি। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

দুদিন আগে মিয়ানমার সরকারের গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশনের (আইসিওই) বিতর্কিত প্রতিবেদনের সঙ্গে সুর মিলিয়ে সু চি বলেন, রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যুদ্ধাপরাধ হতে পারে, তবে গণহত্যার ঘটনা ঘটেনি। রোহিঙ্গারাই বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে তিনি বলেন, মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের তদন্তকারীদের ‘অপ্রমাণিত কাহিনি’র ভুক্তভোগী হচ্ছে মিয়ানমার।

রোহিঙ্গা নির্যাতনে দোষীদের শাস্তি মিয়ানমার নিজেই দিতে পারে বলেও দাবি করেন দেশটির প্রভাবশালী এই নেত্রী।

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চলছে এমন অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করে গাম্বিয়া। মামলায় বলা হয়, মিয়ানমার ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি সেনা পোস্টে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাখাইনে এ অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘরে আগুন, নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের হত্যা এবং নারীদের গণধর্ষণ করা হয়। মিয়ানমার সেনাদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ৭ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে গত মাসে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগে নিজের দেশের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন দেশটির ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি। সেখানে তিনি মিয়ানমার সেনাদের গণহত্যার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই মামলার শুনানির অধিকার নেই আন্তর্জাতিক আদালতের।

অপরদিকে মিয়ানমারের গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকারের জবাবে গাম্বিয়ার এক আইনজীবী আদালতের কাছে রোহিঙ্গা হত্যা ও নিপীড়নের বেশকিছু ছবি প্রদর্শন করেন। এগুলোকে গণহত্যার আলামত হিসেবে আদালতের সামনে উপস্থাপন করেন তিনি।

সে সময় গাম্বিয়ার এক আইনজীবী বলেন, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার অভিযোগে নিজ দেশের সৈন্যদের জবাবদিহি করার জন্য মিয়ানমারকে বিশ্বাস করা যায় না এবং সহিংসতা বন্ধের জন্য এখনই ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

কেএএ/এমকেএইচ