সুইস ঘড়ির সমন্বিত বিক্রিকেও ছাড়িয়ে গেল অ্যাপল ওয়াচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৩৩ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিশ্বজুড়ে বিলাসবহুল ঘড়ির বাজারে তুমুল জনপ্রিয় সুইজারল্যান্ডের ব্র্যান্ডগুলো। তবে সেই জনপ্রিয়তায় ভাগ বসিয়েছে মার্কিন টেকজায়ান্ট অ্যাপল। গত বছর সুইস ব্র্যান্ডগুলোর সমন্বিত বিক্রির চেয়েও অনেক বেশি বিক্রি হয়েছে অ্যাপল ওয়াচ।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটেজি অ্যানালিটিক্স জানিয়েছে, ২০১৯ সালে সুইস প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত বিক্রি ছিল ২১ দশমিক ১ মিলিয়ন ইউনিট। বিপরীতে অ্যাপল ওয়াচ বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩১ মিলিয়ন ইউনিট।

তারা জানায়, বয়স্ক ব্যবহারকারীদের কাছে এখনও অ্যানালগ হাতঘড়িই জনপ্রিয়, তবে তরুণ ক্রেতারা স্মার্টওয়াচ ও কম্পিউটারাইজড পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। আর স্মার্টওয়াচের লড়াইয়ে অ্যাপলের কাছে সোয়াচ ও টিসটের মতো ঐতিহ্যবাহী সুইস ব্র্যান্ডগুলো হেরে যাচ্ছে।

গত কয়েক বছরে অ্যাপলের স্মার্টওয়াচ ও এয়ারপড ওয়্যারলেস হেডফোনের বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। গত ডিসেম্বর প্রান্তিকে অ্যাপলের এই বিভাগ থেকে মোট আয় হয়েছে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি, যা আগের বছরের চেয়ে অন্তত ২৭ শতাংশ বেশি।

ফেডারেশন অব দ্য সুইস ওয়াচ ইন্ডাস্ট্রির তথ্যমতে, ২০১৯ সালে ২০ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘড়ি রফতানি করেছে সুইজারল্যান্ড, যা ২০১৮ সালের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম।

২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো স্মার্টওয়াচ বাজারে আনে অ্যাপল। মাত্র ছয় বছরের মধ্যেই এটি প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লাভজনক পণ্য হয়ে উঠেছে। এমনকি ঐতিহ্যবাহী সুইস ঘড়ির জন্যেও প্রতিযোগিতার বাজারে অন্যতম হুমকি হয়ে উঠেছে অ্যাপল ওয়াচ।

স্ট্র্যাটেজি অ্যানালিটিক্স বলছে, স্মার্টওয়াচের বাজারে প্রভাব ফেলার সুযোগ হারিয়ে ফেলছে সুইস ব্র্যান্ডগুলো। সোয়াচ, টিসট, টিএজি হিউয়ারসহ অন্য ব্র্যান্ডগুলোর সময় সম্ভবত শেষ হয়ে আসছে।

যদিও এখনই হাল ছাড়তে নারাজ এসব ঐতিহ্যবাহী ঘড়ি নির্মাতারা। প্রযুক্তিপণ্যের লড়াইয়ে টিকে থাকতে নিজস্ব স্মার্টওয়াচ বাজারে ছেড়েছে তারা। টিএজি হিউয়ার সম্প্রতি বেশ কয়েকটি মডেলের স্মার্টওয়াচ বের করেছে। এর মধ্যে একটি মডেলের দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

প্রযুক্তিনির্ভর অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহারকারীর শারীরিক সক্ষমতা মাপতে পারে, আশপাশে মুভি থিয়েটার বা জিমের মতো প্রয়োজনীয় জায়গাগুলোও খুঁজে দেয় সহজেই। তাছাড়া দামের ক্ষেত্রেও সুইস ঘড়ির প্রায় অর্ধেক অ্যাপলের স্মার্টওয়াচ।

কার্যকারিতার দিক থেকে অ্যাপল ওয়াচ এগিয়ে থাকলে বিলাসিতার প্রতীক হিসেবে এখনও শীর্ষে সুইস ঘড়ি। বাজার গবেষক প্রতিষ্ঠান আইডিসির গবেষণা পরিচালক রামোন লামাস বলেন, সুইস ঘড়ির দিন শেষ হয়ে গেছে, এতে আমার সন্দেহ আছে। সুইস ঘড়ি নিয়ে এখনও মানুষের আগ্রহ ও চাহিদা রয়েছে। অনেক তরুণ ব্যবহারকারীর মনেই এই ঘড়ির মালিক হওয়ার বাসনা রয়েছে। এছাড়া, আজকের স্মার্টওয়াচ, এমনকি অ্যাপলেরও- কয়েক বছরের মধ্যেই উদ্ভট মনে হবে।

সূত্র: সিএনবিসি, সিএনএন

কেএএ/এমকেএইচ