যৌতুকের জন্য নির্যাতিত ‘চাক দে ইন্ডিয়া’র প্রেরণা লতা দেবী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২০ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ভারতের জাতীয় নারী হকি দলের সাবেক অধিনায়ক ওয়াইখম সুরাজ লতা দেবী পারিবারিক সহিংসতা, শারীরিক আঘাত ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। স্বামী শান্ত সিংকে মামলার প্রধান আসামি করেছেন তিনি।

পাঞ্জাবের সুলতানপুর থানায় মামলা দায়েরের পর গত বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের এলাকা মনিপুরের ইমফলে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরেন লতা দেবী।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০০৫ সালে শান্তর সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই তিনি নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন এবং এই নির্যাতনের প্রধান কারণ যৌতুক।

লতা দেবীর নেতৃত্বেই ভারতীয় হকি দল ২০০২ সালে কমনওয়েলথ গেমস, ২০০৩ সালে আফ্রো-এশিয়ান গেমস এবং ২০০৪ সালে হকি এশিয়া কাপে স্বর্ণপদক জেতে। মনিপুরের মতো পিছিয়ে পড়া অঞ্চল থেকে উঠে এসে ভারতীয় নারী হকি দলকে গুছিয়ে এমন সম্মাননা এনে দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি যে সংগ্রাম করেছেন, সেই প্রেরণাদায়ক কাহিনির ওপরই নির্মিত হয়েছিল বলিউড সিনেমা ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরস্কারজয়ী ২০০৭ সালের সিনেমা ‘চাক দে! ইন্ডিয়া’য় অভিনয় করেছিলেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। হকি দলের অধিনায়ক লতা দেবীর চরিত্রে অভিনয় করেন বিদ্যা মালবাদে। ক্রীড়াক্ষেত্রে নারীদের অনুপ্রেরিত করার এই সিনেমা অনেক সমালোচকেরও প্রশংসা কুড়ায়।

সংবাদ সম্মেলনে লতা অভিযোগ করে বলেন, বিয়েতে এবং বিয়ের পরে আমি যত পুরস্কার-পদক পেয়েছি, সেগুলো নিয়ে আমার স্বামী শান্ত সিং উপহাস করেছে। এগুলো কী কাজে লাগবে বলে কটাক্ষ করেছে। এমনকি ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য আমি যে অর্জুন পুরস্কার পেয়েছি, সেটাও নাকি অনৈতিক কার্যকলাপের কারণে পেয়েছি বলে অপমান করেছে সে।

দুই সন্তানের মা লতা দেবী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব চলতে থাকলেও আমি প্রকাশ্যে আনতাম না। কারণ আমি মনে করতাম, একসময় সে শোধরাবে। কিন্তু কত আর ধৈয্য ধরা যায়?

কয়েকটি টুর্নামেন্ট চলাকালেও স্বামী শান্ত সিং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত বা নির্যাতন করেছেন বলে দাবি করেন লতা দেবী।

সংবাদমাধ্যম জানায়, লতা দেবী পাঞ্জাবে সংঘটিত নির্যাতনের এমন একটি ঘটনা মনিপুর পুলিশকে জানালে তারা তাকে ঘটনাস্থল এলাকায়ই মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়। সেই পরামর্শ মেনে গত সপ্তাহে পাঞ্জাবের সুলতানপুর লোধী থানায় মামলা করেন অনেক তরুণীর ‘আইডল’ লতা দেবী।

এইচএ/এমকেএইচ