হাত নেই, হাড়কে আঙুল বানিয়ে মালবিকার বিশ্বজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫৬ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

‘মেঘ দেখে কেউ করিস নে ভয় আড়ালে তার সূর্য হাসে’- কোন ঘটনায় কার কথা মনে করে রবী ঠাকুর এ কথা লিখেছিলেন তা নিশ্চিত না হলেও এটি যে ধ্রুব সত্য, সেটি নিয়ে অন্তত বিতর্ক নেই। থাকবেই বা কী করে! আমাদের চারপাশেই ভুরিভুরি উদাহরণ রয়েছে লড়াকু মানসিকতায় বিশ্বজয় করার। তেমনই এক নারীর নাম মালবিকা আইয়ার।

জন্ম ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কুম্বাকোনাম এলাকায়। বয়স যখন মাত্র ১৩, তখনই তার জীবনে নেমে আসে এক ভয়াবহ বিপর্যয়। গ্রেনেড বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন তিনি। হাত-পায়ে ভয়াবহ জখম নিয়ে যখন তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়, প্রাণ বাঁচাতে প্রথমেই দুই হাত কেটে বাদ দেন চিকিৎসকরা। তবে, কাজ দ্রুত করতে গিয়েই বাঁধে গড়বড়। সেলাই করার সময় হাতের হাড় মাংসে ঢাকা না পড়ে বেরিয়ে রয়েছে, তা খেয়াল করেননি কেউই। সেই থেকে কী যে যন্ত্রণা মালবিকার! একটু আঘাত লাগলেই ব্যথায় কঁকিয়ে উঠতেন। কিন্তু ততদিনে ভুল যা হওয়ার হয়েই গেছে! বাধ্য হয়েই বাস্তবতা মেনে নিতে হয় তাকে।
তবে অস্থির যন্ত্রণার মধ্যেও হাল ছাড়েননি মালবিকা। ফলও পেয়েছেন উপযুক্ত। মাত্র ৩০ বছর বয়সেই আজ তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত এক মুখ।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ছিল তার জন্মদিন। আর এদিনটিকেই তিনি বেছে নিয়েছেন নিজের গল্প বলার জন্য। নিজের ভেরিফায়েড টুইটার অ্যাকাউন্টে মালবিকা বলেন, ‘বোমায় যখন হাত উড়ে গেল, ডাক্তারদের একটাই চিন্তা, কী করে আমাকে বাঁচাবেন! একারণে তড়িঘড়ি তারা আমার দুটো হাতই কেটে ফেলেন। তবে সেলাই করার সময় হাতের হাড় যে বেরিয়ে আছে, তা খেয়াল করেননি। ফলে, সেলাই হলো ভুল জায়গায়। বেরিয়ে থাকল হাতের হাড়।’

চিকিৎসকদের সেই ভুলের মাশুল সারাজীবন টানতে হবে মালবিকাকে। হাত ঠিক হওয়ার আর কোনও সম্ভাবনা না থাকায় নিতে হয়েছে বিকল্প পদ্ধতি। যন্ত্রণা ও দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে বের হয়ে থাকা হাড়কে রূপার পাতলা পাত দিয়ে মুড়ে দেয়া হয়। ধীরে ধীরে সেটিই হয়ে ওঠে মালবিকার হাতের আঙুল। এখন এটি দিয়েই তিনি ফোন চালান, টাইপ করেন।

এই ‘রূপালি আঙুল’ নিয়েই তিনি শেষ করেছেন পিএইচডি থিসিস। বক্তব্য রেখেছেন জাতিসংঘে, হয়ে উঠেছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের দৃষ্টিতে বিশ্ব পরিবর্তনের অগ্রণী নারী। তাই তো সবার উদ্দেশে মালবিকার অভয়বাণী, যতই দুঃখ আসুক, কষ্ট আসুক, হার মানবেন না। জীবনের ছোট ছোট ঘটনাগুলো উপভোগ করুন।

হাত নেই, বিস্ফোরণের আঘাতে অনুভূতিহীন পা-ও। তবুও তিনি জীবন ভালোবাসেন, মানুষ ভালোবাসেন। কাজ করছেন মানুষের দিনবদলের জন্য। তাই লড়াকু এই নারী আজ হয়ে উঠেছেন সাহসিকতার জীবন্ত উদাহারণ, লাখো মানুষের আদর্শ।

সূত্র: এনডিটিভি, উইকিপিডিয়া

কেএএ/এমকেএইচ