আমার বুড়ি মা পালাতে পারেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:২৭ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

তখন দুপুর বেলা। ছেলে দুধ কিনতে গিয়ে মো. সইদ খবর পেলেন, তার বাড়ি দাউ দাউ করে জ্বলছে। পুলিশ তছনছ করে ফেলছে আশপাশের সব বাড়িঘর। নিচতলায় দুই রুমে দর্জির দোকানও ছিল। অবস্থা এতটায় বেগতিক পরিবার ও দোকানের ৬ কর্মী ছাদে উঠে দরজা বন্ধ করে রেখেছেন।

কিন্তু জ্বলন্ত বাড়ির তিনতলা থেকে শুধু নড়তে পারেননি সাইদের মা (৮৫)। জায়গাটি দিল্লির খাজুরি খাস থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে। বাসায় ফিরে সাইদ হাহাকার করছেন, ‘আমার বুড়ি মা পালাতে পারল না। আমি থাকলে মাকে ছাদে নিয়ে যেতাম’। আগামীকাল মাকে সমাহিত করা হবে’।

চাঁদবাগের মো. জুবের নিজের ছবি দেখেই কেঁপে উঠছেন। মঙ্গলবার দেশের পত্রিকাজুড়ে ছিল জুবেরের ছবি। ছবিতে দেখা যায়, জুবের রাস্তায় পড়ে আছে। দেখার যেন কেউ নেই। পুলিশ পাগলের মতো লাঠিচার্জ করছে। সোমবার সকালে নমাজ পড়তে গিয়েছিলেন জুবের। তার পরে বিয়েবাড়ি থেকে স্ত্রীকে নিয়ে ফেরার কথা ছিল বাড়িতে।

দিনমজুর জুবের তিন সন্তানের জন্য হালুয়া কিনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। চালের থেকে হালুয়ায় খরচ কিছুটা কম। হালুয়া আর পরোটা হলেই তাদের দিন চলে যায়। হঠাৎ করেই তাকে পেটাতে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জুবের বলেন, ‘যত মিনতি করছিলাম, তত মার খাচ্ছিলাম। ওরা ধর্ম তুলে কটূক্তি করছিল, বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রের নামও নিচ্ছিল জানি না বৌ-বাচ্চাদের আর দেখতে পাব কিনা’।

উল্লেখ্য, গত রোববার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) সমর্থক-বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলেও ধীরে ধীরে এটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় রূপ নেয়। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। বৃহস্পতিবারও অন্তত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে সেখানে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও দুই শতাধিক মানুষ।

এমআরএম/এমকেএইচ