দিল্লি দাঙ্গার ‘গুলি মারো’ স্লোগান এবার কলকাতায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:০৩ পিএম, ০১ মার্চ ২০২০

বিদ্বেষমূলক বক্তৃতার কারণে দিল্লিতে রক্তাক্ত সহিংসতা ঘটলেও ভারতে এখনও এ ধরনের ঘৃণাত্মক বক্তৃতা-বিবৃতি অব্যাহত রয়েছে। রোববার কলকাতায় দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর এক সমাবেশে দেশবিরোধীদের গুলি করে মারো স্লোগান দিতে দেখা গেল বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের।

কলকাতার ওই সমাবেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশটির বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের পক্ষে কথা বলেন। একই সঙ্গে এই আইন ঠেকাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় দাঙ্গায় উসকানি এবং ট্রেন জ্বালিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন অমিত শাহ।

সমাবেশের ভিডিওতে দেখা যায়, বিজেপির দলীয় পতাকা হাতে একদল কর্মী স্লোগানে স্লোগানে গলা ফাটাচ্ছেন। এনডিটিভি বলছে, তাদের এই স্লোগানের (দেশ কে গদ্দারো কো, গোলি মারো সালো কো) অনুবাদ করলে অর্থ দাঁড়ায়, দেশের সঙ্গে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করছে, তাদেরকে গুলি করে মারো। পরে পুলিশের এক সদস্য এগিয়ে গিয়ে বিজেপির কর্মীদের স্লোগান বন্ধ করেন।

গত সপ্তাহে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে রক্তাক্ত সহিংসতার পেছনে দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও মন্ত্রীর বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা-বিবৃতিকে দায়ী করা হচ্ছে।

চারদিনের বেশি সময় ধরে দিল্লির রাস্তায় লোহার রড, পাথর ও হকিস্টিক হাতে তাণ্ডব চালাতে দেখা গেছে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের। এই সময় বেছে বেছে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় মুসলিমদের বাড়ি-ঘর, দোকানপাট, মসজিদে হামলা, অগ্নিসংযোগ করে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।

কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পের এই আগুনে ও হামলায় মারা গেছেন অন্তত ৪৩ জন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও আড়াইশ জনের বেশি মানুষ। কলকাতাতেও পরিস্থিতি কিছুটা দিল্লির মতো ধারণ করছে।

দেশটির নাগরিকত্ব আইনের বিরোধী দিল্লির শাহিনবাগে যে ধরনের বিক্ষোভ চলছে; তাতে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই কলকাতাতেও বিক্ষোভ করেছেন। সিএএবিরোধীদের প্রধান কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়; তার নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে বেশ কয়েকটি পদযাত্রাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার সারা দেশে জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনআরপি) কার্যক্রমের ঘোষণা দিলেও পশ্চিমবঙ্গে তা বাস্তবায়ন করেতে দেননি মমতা। বিরোধীরা বলছেন, জাতীয় নাগরিক পঞ্জির আদলে বিজেপি এখন এনআরপি বাস্তবায়নের পায়তারা করছে। তাদের অভিযোগ, সিএএ এবং এনআরসির টার্গেট হবেন সংখ্যালঘু মুসলিমরা।

গত মাসে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিজেপির জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভকারী সব ‘বিশ্বাসঘাতক’ এবং ‘সন্ত্রাসী’কে গুলি করে মারো বলে স্লোগান দেন। দিল্লির সহিংসতার সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়া এই স্লোগান এবার কলকাতায় শোনা গেল।

কিন্তু দিল্লির নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল ক্ষমতায় আসার পর বিজেপির ভরাডুবির পেছনে হিংসাত্মক সব বক্তৃতা-বিবৃতি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন অমিত শাহ।

সূত্র : এনডিটিভি।

এসআইএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]