নিঃশ্বাস নিতে পারছি না, বাঁচার আকুতি কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের

কৌশলী ইমা কৌশলী ইমা , যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশিত: ১২:৫৩ পিএম, ২৭ মে ২০২০

কৃষ্ণাঙ্গ এক ব্যক্তিকে নির্যাতনের পর মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের চার পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

মিনেপোলিস পুলিশের প্রধান মেদারিয়া আরাডোনদো জানিয়েছেন, চার কর্মকর্তা বরখাস্ত হয়েছেন। তারা এখন মিনেপোলিশের সাবেক কর্মী।

সম্প্রতি এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে পুলিশের নির্যাতন করার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা গেছে, ওই যুবককে হাঁটু দিয়ে চেপে ধরে নির্যাতন করছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।

জর্জ ফ্লোয়েড নামের ওই কৃষ্ণাঙ্গ যুবক বাঁচার আকুতি জানিয়ে বারবার বলছিলেন, আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে এই ঘটনা প্রকাশ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু করেন। কিন্তু একপর্যায়ে তা সহিংস হয়ে ওঠে।

পুলিশ তাদের দিকে কাঁদানে গ্যাস ও বিন ব্যাগ ছোড়ে। জবাবে বিক্ষোভকারীরা তাদের দিকে পানির বোতল ও অন্য জিনিসপত্র ছুড়তে থাকে। এর মধ্যে কিছু বিক্ষোভকারী একটি পুলিশ স্টেশনের বাইরে ভাঙচুর করেছে।

মিনেপোলিস পুলিশের প্রধান মেদারিয়া আরাডোনদো জানিয়েছেন, ওই ভিডিওতে দেখা ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে এফবিআই। একই সংবাদ সম্মেলনে মেয়র জ্যাকব ফ্রে বলেন, একজন কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ার জন্য কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে মরতে হবে না।

তিনি বলেন, ৫ মিনিট ধরে আমরা দেখেছি একজন শেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ফ্লোয়েডের কাঁধে হাঁটু গেড়ে বসে আছেন। এ সময় কেউ একজন সাহায্যের জন্য আহ্বান জানাচ্ছিলেন। এরপরই মেয়র জ্যাকব এক টুইট বার্তায় ওই চার পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্তের ঘোষণা দেন।

একটি জালিয়াতির খবরে জড়িত এক ব্যক্তির সঙ্গে ফ্লোয়েডের মিল পাওয়ায় তাকে আটক করা হয়। পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, ফ্লোয়েডের বয়স ৪০ এর কোটায়। তিনি একটি গাড়িতে ছিলেন। তিনি গাড়ি থেকে নামার পর পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদ শুরু হয়। এক পর্যায়ে ফ্লোয়েডকে হ্যান্ডকাপ পরানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, সেসময় তিনি মানসিক অস্থিরতায় ভুগছেন বলে মনে হয়েছে। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শী একজন মোবাইল ফোনে ওই দৃশ্য ধারণ করেছেন। এতে বাদানুবাদের কোনো দৃশ্য নেই। এতে দেখা যায়, একটি গাড়ির পাশেই চাকার কাছে পড়ে আছেন ফ্লোয়েড।

আর এক পুলিশ কর্মকর্তা তার কাঁধে সজোরে হাঁটু গেড়ে চাপ প্রয়োগ করছেন। এ সময় ফ্লোয়েডকে বার বার আর্তনাদ করতে শোনা যায়। তিনি নিঃশ্বাস নিতে পারছিলেন না। সে সময় আশপাশে যারা উপস্থিত ছিলেন, তারা পুলিশের প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানান।

কয়েক মিনিট পড়ে আস্তে আস্তে নিথর হয়ে পড়েন ফ্লোয়েড। একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে তিনি মারা যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

টিটিএন/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]