পঙ্গপাল ধরে বিক্রি করছেন পাকিস্তানের কৃষকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৩৬ পিএম, ৩১ মে ২০২০

ফসলের যম হিসেবে খ্যাত পঙ্গপালের হানায় হুমকিতে পড়েছে ভারত ও পাকিস্তানের খাদ্য নিরাপত্তা। গ্রীষ্মকালীন ফসলগুলো ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে মারাত্মক এ সংকটের মধ্যেও নতুন সমাধান খুঁজে পেয়েছেন পাকিস্তানের কৃষকরা।

পাকিস্তানের স্থানীয় এক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশের ওকরা জেলার কৃষকরা শুধু পঙ্গপালকে দমনই নয়, তা বিক্রি করে আয়েরও সংস্থান করেছেন। ক্ষুদ্র এ পতঙ্গ হয়ে উঠেছে মুরগির উচ্চ প্রোটিন যুক্ত খাবার। তাই বাজারে বিক্রি হচ্ছে সেসব।

ওকারা জেলায় উদ্ভাবনী এ প্রকল্পের প্রবক্তা পাকিস্তানের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও গবেষণা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ খুরশিদ ও পাকিস্তান কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের জৈবপ্রযুক্তিবিদ জোহর আলী। তার দেখানো পথে হেঁটে পঙ্গপাল নিয়ন্ত্রণের নতুন দিশা খুঁজে পেয়েছেন কৃষকরা।

আলী বলেন, ‘যখন শুরু করলাম তখন অনেকেই উপহাস করেছে। কারণ পঙ্গপাল বিক্রি করবে এ চিন্তা তখন পর্যন্ত কেউ করেনি।’ খুরশিদ বলেন, ‘ইয়েমেনের থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছি আমরা। দুর্ভিক্ষ কবলিত দেশটিতে ২০১৯ সালে শ্লোগান উঠেছিল, ‘ফসল খাওয়ার আগে, পঙ্গপালকে খেয়ে ফেল।’

প্রথমে তারা পাকিস্তানের জনবহুল ওকারা জেলায় তিন দিনের পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পটি ছিল দেপালপুরে পেপলি পাহার বনে। গত ফেব্রুয়ারি থেকেই সেখানে বিপুল সংখ্যক পঙ্গপাল আসতে থাকে। আর ওই বন নির্বাচন করা হয়েছে কারণ ওখানে পঙ্গপালের ওপর কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি।

তারপর তারা একটি শ্লোগান ছড়িয়ে দেন। সেটি হলো, ‘পঙ্গপাল ধর, আয় কর এবং ফসল বাঁচাও’। প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রতি কেজি পঙ্গপালের বিনিময়ে পাকিস্তানি মুদ্রায় ২০ রুপি করে দেয়া হয়। এটা দেখে সেখানকার কৃষকরা উদ্ধুদ্ধ হয়ে পঙ্গপাল ধরতে শুরু করেন।

খুরশিদ বলেন, ‘পঙ্গপাল সাধারণত দিনের আলোতে উড়ে বেড়ায়, রাতে ওরা গাছপালায় বা উন্মুক্ত ময়দানে বিশ্রাম নেয়। তখন একদম নড়াচড়া করে না। মৃতের মতো পড়ে থাকে। ওই সময় পঙ্গপাল ধরা অনেক সহজ। আমরা কৃষকদের সেই বুদ্ধি দিলাম। তাতেই কাজ হলো।’

তিনি আরও জানান, ‘কৃষকরা প্রথম রাতেই ৭ টন পঙ্গপাল ধরেছে। আমরা সেগুলো পার্শ্ববর্তী মুরগির খাবার তৈরির কারখানায় বিক্রি করেছি। ওই এক রাত কাজ করে অনেক কৃষক ২০ হাজার রুপিও আয় করেছেন।’ এছাড়া যারাই এই কাজটি করছেন তাদের আয় হচ্ছে বেশ ভালোই।

জোহর আলী বলেন, ‘প্রথম রাতে ১০ থেকে ১৫ জন কৃষক কাজ করে। কিন্তু লোভনীয় এ আয়ের খবর চর্তূদিকে ছড়িয়ে পড়লে তৃতীয় রাতে কয়েকশ কৃষক জড়ো হয়। তারা নিজেরাই থলে নিয়ে আসে এবং সারারাত পঙ্গপাল ধরে থলে ভর্তি করে ফেলে। আমরাও তাদের বিনিময় দিয়ে দিলাম।’

পাকিস্তানের মুরগির খাবার তৈরির প্রতিষ্ঠান হাই-টেক ফিডসের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আতাহার বলেন, ‘পঙ্গপাল যদি কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই ধরা যায় তবে এটি অত্যন্ত উচ্চপ্রোটিন যুক্ত খাবারে পরিণত হয়। এ খাবার হাস-মুরগি, মাছ ও গবাদিপশুকে খাওয়ানো যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে সয়াবিন আমদানি করে প্রাণীর খাবার তৈরি করি, তাতে প্রোটিন ৪৫ শতাংশ, আর পঙ্গপালে আছে ৭০ শতাংশ। পঙ্গপাল হলে আমাদের খরচও পড়ছে অনেক কম।’

প্রকল্পের এ সাফল্যে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালেও সাময়িক স্থগিত রাখতে হয় করোনা মহামারির কারণে। আলী বলেন, ‘এখন লকডাউন শিথিল হয়েছে, আমরা প্রকল্পটি আবার শুরু করবো। গ্রামে কর্মহীন অনেক মানুষ আছে, আমরা তাদের আয়ের জন্য এ সুযোগ কাজে লাগাব।’

এসএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]