প্রেমিককে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারল কনস্টেবল প্রেমিকার পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৫৫ পিএম, ০২ জুন ২০২০

পুলিশের এক নারী কনস্টেবলের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়ায় এক যুবককে রাতের আঁধারে ঘর থেকে তুলে এনে গাছে বেঁধে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার রাতে রোমহর্ষক এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড় জেলায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লকনৌ থেকে ১৬৬ কিলোমিটার দূরের প্রতাপগড় জেলায় ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেছে প্রতিবেশিরা। প্রতিবেশি এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া নিয়ে স্থানীয়রা ওই যুবকের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে এনডিটিভি বলছে, সোমবার রাতে ওই যুবককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় একদল লোক। পরে তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার পর জেলা পুলিশের একটি দল সেখানে গেলে হামলার শিকার হয়।

স্থানীয়রা পুলিশের দুটি গাড়ি এবং একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সদস্যরা ওই যুবকের অর্ধ-পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত আম্বিকা প্রসাদ প্যাটেল নামের ওই যুবক গত বছর গ্রামের এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু ওই তরুণীর পরিবারের সদস্যরা এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। কয়েক মাস আগে ওই তরুণী উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে নিয়োগ পান। পরে কানপুর পুলিশে যোগ দেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অন্তরঙ্গ দৃশ্যের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতাপগড় জেলা পুলিশের প্রধান অভিষেক সিং বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি ছড়িয়ে দেয়ার জন্য আম্বিকা প্যাটেলকে দায়ী করে আসছিলেন ওই কনস্টেবল এবং তার বাবা-মা। শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে প্রেমিক প্যাটেলের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এখন এই কনস্টেবলের পরিবারের বিরুদ্ধে প্যাটেলকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

শ্লীলতাহানির মামলা দায়েরের পর প্রসাদ প্যাটেল জেলে বন্দি ছিলেন। গত মার্চে উত্তরপ্রদেশ সরকার করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে রাজ্যের ৭১টি কারাগারের ১১ হাজার বন্দিকে মুক্তি দেয়। এই মুক্তি পাওয়াদের দলে ছিলেন কনস্টেবলের প্রেমিক প্রসাদ প্যাটেলও।

প্রতাপগড় পুলিশ বলছে, ওই যুবককে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে এখন পর্যন্ত দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; তাদের একজন হলেন মেয়েটির বাবা। প্যাটেলের অর্ধদগ্ধ লাশ ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গ্রামটিতে পুলিশের অনেক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

এসআইএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]