‘ভারতীয় সেনার গুলিতে’ বৃদ্ধের মৃত্যু, প্রতিবাদে উত্তাল কাশ্মীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৩২ এএম, ০২ জুলাই ২০২০

রাস্তায় পড়ে রয়েছে দাদার রক্তাক্ত মরদেহ, তার বুকের ওপর বসে কাঁদছে তিন বছরের নাতি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এ হৃদয়বিদারক ছবিটি। আর এ মর্মান্তিক এ দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে ভারতশাসিত কাশ্মীরে।

পুলিশ বলছে, ওই ব্যক্তি বন্দুকযুদ্ধের মাঝে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। আর মৃতের পরিবারের দাবি, তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হত্যা করেছে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা। বশির আহমেদ খান নামে ওই বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় ফের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে উপত্যকা এলাকা। খবর আল জাজিরার।

কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিদর্শক বিজয় কুমার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সোপোর এলাকার একটি মসজিদ থেকে বিদ্রোহীরা নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের ওপর গুলি চালালে দুই পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। এতে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত ও তিন সদস্য আহত হন।

বিজয় কুমার জানান, বন্দুকযুদ্ধের সময় বশির আহমেদ তার নাতিকে সঙ্গে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সেসময় বিদ্রোহীদের ছোড়া গুলিতে তিনি প্রাণ হারান।

তবে পুলিশের এ দাবি উড়িয়ে দিয়েছে মৃতের পরিবার। বশিরের ছেলে সুহেইল আহমেদ বলেন, ‘আমরা একটা ফোনকল পাই যে, বাবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা সোপোরে গেলে বলা হয়, তিনি ক্রসফায়ারে মারা গেছেন।’

সুহেইলের প্রশ্ন, ‘এটা যদি ক্রসফায়ারই হয় তাহলে মরদেহ গাড়ির ভেতর থাকার কথা। কিন্তু সেটি রাস্তার ওপর এলো কী করে?’

jagonews24

স্বজনদের দাবি, নিরাপত্তা সদস্যরাই বশির আহমেদকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে হত্যা করেছে। এমনকি, ছবি তোলার জন্য তার বুকের ওপর ছোট্ট শিশুটিকে বসতেও বাধ্য করা হয়েছে।

পরে শ্রীনগরে বশির আহমেদের জানাজায় সমবেত হন শত শত মানুষ। এসময় তারা কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দেন।

গত মার্চে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় লকডাউন জারির পর থেকেই কাশ্মীরে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে ভারত সরকার।

জম্মু কাশ্মীর নাগরিক সমাজে জোটের (জেকেসিসিএস) তথ্যমতে, গত জানুয়ারি থেকে এপর্যন্ত ভারতশাসিত কাশ্মীরে অন্তত ২২৯ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩২ জন বেসামরিক নাগরিক, ৫৪ জন সরকারি নিরাপত্তাকর্মী এবং ১৪৩ জন বিদ্রোহী।

কাশ্মীর উপত্যকায় পাঁচ লাখেরও বেশি সামরিক-আধা সামরিক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করেছে ভারতীয় প্রশাসন। এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্য বরাবরই পাকিস্তানকে দায়ী করেছে তারা।

কেএএ/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]