যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হঠাৎ কেন সুর নরম করল চীন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৪১ পিএম, ১১ জুলাই ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হঠাৎ করেই সুর নরম করেছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যখন চীনের বৈরিতার পারদ প্রতিদিন ওপরে উঠছে ঠিক এমন সময়ই চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ওয়াশিংটনকে লক্ষ্য করে ৎদীর্ঘ এক বিবৃতি দিয়েছেন। ওই বিবৃতি সবাইকে বিস্মিত করেছে।

তিনি বলেছেন, ১৯৭৯ সালে নতুন করে কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে শুরুর পর দু'দেশের সম্পর্ক এতটা খারাপ এবং বিপজ্জনক আর কখনই হয়নি। কিন্তু এই উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি তিনি এই পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছেন।

তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের বর্তমান প্রশাসন চীন বিষয়ে যে কৌশল নিয়েছে তা একগাদা ভ্রান্ত ধারণা এবং মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন ব্যাপারটিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, যেকোনো চীনা বিনিয়োগের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে, বিদেশে যে কোনো চীনা ছাত্র একজন গুপ্তচর এবং প্রতিটি সহযোগিতার পেছনে চীনের কোনো না কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে।

ওয়াং ই বলেন, যেটা সত্যি তা হলো চীন কখনই বিশ্ব পরিসরে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে তার জায়গা নিতে আগ্রহী নয়।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে চীনের নীতি একই রকম এবং তা বদলায়নি। চীন চায় বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি যেন সহযোগিতার সম্পর্কের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করে।

তিনি বলেন, অমি আশা করি যুক্তরাষ্ট্র ঠাণ্ডা মাথায় চীনের ব্যাপারে নিরপেক্ষ, বাস্তবমুখী এবং যৌক্তিক নীতি গ্রহণ করবে। ওয়াশিংটন সত্যিকার অর্থেই যদি চায় তবে চীন সর্বদা কথা বলতে প্রস্তুত রয়েছে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোষ্টকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে সেখানকার চীনা অ্যাকাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সের মার্কিন-চীন সম্পর্কের গবেষক লু শিয়াং বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই সম্ভবত চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব বক্তব্য দিচ্ছেন।

নির্বাচনের আগে চীন ওয়াশিংটনকে কিছুটা শান্ত করতে চাইছে। চীনের এই বার্তার লক্ষ্য আমেরিকান ভোটার ছাড়াও আমেরিকান নীতি নির্ধারকরাও। তাদেরকে চীন বলতে চাইছে শত্রুতার পারদ না বাড়িয়ে চীনের সাথে সহযোগিতা করলে তাতে আমেরিকার লাভ হবে, আমেরিকার অর্থনৈতিক পুনরুত্থান অনেক সহজ হবে।

১৯৭১ সাল থেকে চীনা নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের সবসময় এই বার্তাই দিয়েছেন। তারা বলেছেন, আমরা তোমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নই, আমরা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন চাই এবং সেইসাথে সমান মর্যাদা চাই। ওয়াং ই গতকাল নিজের বক্তব্যেও এসব কথার পুনরাবৃত্তিই করেছেন।

ধারণা করা হচ্ছে যে, পরবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেতার সম্ভাবনা নিয়ে চীনারা হয়তো ভাবছে এখন আমেরিকান ভোটারদের বলার সময় যে চীনের কাছ থেকে তাদের লাভ ছাড়া ক্ষতি হবেনা।

করোনা সঙ্কট মোকাবিলায় চীনা সরকারের অবস্থান নিয়ে মার্কিন জনগণের মধ্যে বড় ধরণের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এজন্য ট্রাম্প প্রশাসন মানুষকে এটা বোঝানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে যে এতে সরকারের কোনো দায় নেই, সব সংকটের মূলে চীন। সময়মত চীনকে তারা দেখে নেবেন...চীনকে দোষারোপ করাকে ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনে জেতার একমাত্র ওষুধ হিসাবে বিবেচনা করছেন।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটারদের সামনে চীনকে শত্রু হিসেবে তুলে ধরার প্রয়াস যেমন রয়েছে, তেমনি চীনকে নিয়ে ট্রাম্পের ভীতিও আছে।

টিটিএন/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]