‘ধুম ২’ যখন বাস্তবে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:২৫ এএম, ২৬ জুলাই ২০২০

বলিউডের অত্যন্ত জনপ্রিয় মুভি ‘ধুম ২’-এর ট্রেনে চুরির দৃশ্যটা মনে আছে নিশ্চয়! সেই যে, হৃত্বিক রোশন কৃত্রিম মুখোশ পরে ব্রিটেনের রানি সেজে মুকুট চুরি করে পালিয়ে যান, দেখেছেন হয়তো। ওটা সিনেমা হলেও অনেকটা একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বাস্তবেই। তা-ও আবার যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ক্যাসিনোতে।

মুখে কৃত্রিম মুখোশ পরে বৃদ্ধ সেজে, ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে এবং ইন্টারনেট থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে এক ব্যক্তি কয়েক দফায় একাধিক ক্যাসিনো থেকে প্রায় এক লাখ মার্কিন ডলার চুরি করেছেন। শনিবার ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ৫৫ বছর বয়সী জন কোলেটাই নামে ওই ব্যক্তি টার্গেট করা মানুষদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে এবং ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করে ক্যাসিনোর কিয়স্ক থেকে টাকা চুরি করতেন। কিয়স্কগুলো পরিচালনা করে গ্লোবাল পেমেন্টস গেমিং সার্ভিসেস নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এসব কিয়স্ক ক্যাসিনোর বিল দেয়া, জ্যাকপট প্রক্রিয়া সম্পাদন, নগদ অর্থ উত্তোলনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। সেখান থেকে অর্থ তুলতে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রবেশ করিয়ে ফোন নাম্বার ও সোশ্যাল সিকিউরিটি নাম্বারের শেষ চারটি ডিজিট প্রবেশ করাতে হয়।

জানা যায়, গত বছরের ২৬ এপ্রিল থেকে ২৭ মে’র মধ্যে এমজিএম গ্র্যান্ড ক্যাসিনো তাদের অন্তত ১০ ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ৯৮ হাজার ৮৪০ ডলার চুরির বিষয়টি জানতে পারার পর থেকেই এ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। ক্যাসিনো কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মিশিগান পুলিশকে জানায় এবং সিসি ক্যামেরার ভিডিও থেকে সন্দেহভাজন একজনকে চিহ্নিত করে। প্রায় প্রতিটি ফুটেজেই নকল মুখোশ পরে বৃদ্ধ সেজে একজনকে অর্থ তুলতে দেখা যায়। এর প্রায় এক বছর পর গত ১২ মার্চ কানসাস থেকে গ্রেফতার করা হয় কোলেটাইকে।

যেভাবে ধরা পড়লেন কোলেটাই
একদিন মায়েটার প্রেরি ব্যান্ড ক্যাসিনো অ্যান্ড রিসোর্টের কর্মকর্তারা লক্ষ্য করেন, মাথায় হ্যাট, চোখে চশমা পরা বয়স্ক এক ব্যক্তি কিয়স্ক থেকে ২০ হাজার ডলার তুলেছেন। সন্দেহ হওয়ায় নিরাপত্তাকর্মীরা এগিয়ে যান এবং তার সোশ্যাল সিকিউরিটি নাম্বার জিজ্ঞেস করেন। এর জবাব না দিয়ে ওই ব্যক্তি বাথরুমে ঢুকে পড়েন।

jagonews24

বাথরুমে গিয়ে বৃদ্ধ সেজে থাকা কোলেটাই দ্রুত ছদ্মবেশ খুলে ফেলেন এবং প্রকৃত চেহারায় ক্যাসিনো থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তার প্যান্টের নিচ দিকে ফুলে থাকতে দেখা গিয়েছিল। ধারণা করা হয়, সেখানে মুখোশটি লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি।

পরে বাথরুমে গিয়ে পুলিশ বৃদ্ধের ছদ্মবেশের পোশাক, চলাফেরার লাঠি, গাড়ির চাবি, দু’টি ড্রাইভিং লাইসেন্স ও প্রায় ১১ হাজার ডলার খুঁজে পায়। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের পিছে লাগানো কাগজে শিকারের সোশ্যাল সিকিউরিটি নাম্বার ও ফোন নাম্বার লেখা ছিল, যেগুলোর সাহায্যে কিয়স্ক থেকে অর্থ তোলা যেত।

কোলেটাইকে গ্রেফতারের পর এফবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ট্রাইবাল পুলিশ। তারা অত্যন্ত ধূর্ত এ চোরের গাড়ি তল্লাশি করে সেখান থেকে চারটি মুখোশ, ফ্ল্যাশ ড্রাইভ, পরিচয়পত্র, বিভিন্ন কিয়স্কের রশিদ, এমনকি ‘অপরাধ করেও কীভাবে বেঁচে যাওয়া যায়’ এমন একটি বই খুঁজে পান তারা।

পর্যায়ক্রমে কোলেটাইয়ের কাছ থেকে মোট ৮৩টি ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিভিন্ন নামে ১৪টি বীমা কার্ড, বিভিন্ন ক্যাসিনোর ১৯টি প্লেয়ার্স কার্ড, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাফ আইডি ও ছদ্মনামে করা একটি সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড উদ্ধার করা হয়।

জন কোলেটাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণা, পরিচয় চুরি, ডিভাইস জালিয়াতিসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী ৩০ জুলাই ইউএস মার্শালের হেফাজতে থাকা কোলেটাইয়ের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কেএএ/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]