রোহিঙ্গা গণহত্যায় রক্তাক্ত মিয়ানমারের মসনদে ফের বসতে চান সু চি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:২০ পিএম, ০৪ আগস্ট ২০২০

মিয়ানমারের আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রার্থী হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক সংস্কারের পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে সু চির প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাকে।

কয়েক দশকের সামরিক শাসনের কবলে থাকা মিয়ানমারে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের নভেম্বরে। ওই নির্বাচনে দেশটির গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠা শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি জয় লাভ করেন

সু চি নেতৃত্বাধীন দেশটির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেলেও সেনাবাহিনীর জেনারেলদের সঙ্গে ক্ষমতার ভাগাভাগি করতে বাধ্য হয়। জয়লাভ করলেও স্বামী এবং সন্তান বিদেশি নাগরিক হওয়ায় তিনি প্রেসিডেন্ট পদে বসতে পারেননি, পেয়েছেন রাষ্ট্রের ডি ফ্যাক্টো নেত্রীর পদ।

১৯৬২ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর সামরিক একনায়কতন্ত্রের অধীনে ১৯৯০ সালে দেশটির সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় এনএলডি জয়ী হলেও ক্ষমতায় যেতে পারেনি। তৎকালীন সেনাশাসিত সরকার সু চিকে গৃহবন্দি করে। দীর্ঘদিন পর ২০১০ সালে গৃহবন্দি থেকে মুক্তি পান মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী এ নেত্রী।

su-kyi

কয়েক দশক ধরে দেশটিতে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমরা ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হলেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে কোনো তৎপরতা দেখায়নি। গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী হিসেবে পরিচিত সু চিও ছিলেন একেবারেই নীরব। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সু চির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলেও দেশের ভেতরে ব্যাপক জনপ্রিয় এই নেত্রী।

রয়টার্স বলছে, মঙ্গলবার ৭৫ বছর বয়সী সু চি দেশটির সাবেক রাজধানী ইয়াঙ্গুনের নির্বাচন অফিসে প্রায় ৫০ জন সমর্থক নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য একটি আবেদনপত্র দাখিল করেন। এ সময় সমর্থকদের কেউ কেউ ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রতি সমর্থন জানাতে দলীয় পতাকার লাল রঙের আদলে তৈরি মাস্ক পরে ‘মা সু চি, সুস্থ থাকুন’ স্লোগান দেন।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশে দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু হয়। এ অভিযানের মুখে সাত লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরে ঠাঁই নেয়। জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, ‘গণহত্যার অভিপ্রায়ে’ রাখাইনে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে স্বীকার করেন তিনি। তবে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন মিয়ানমারের এই নেত্রী। তিনি বলেন, শরণার্থীরা নিজেদের ওপর নিপীড়নের ঘটনা অতিরঞ্জিত করে বলছেন।

su-kyi-1

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের ‘গণহত্যা চলমান’ রয়েছে, এমন অভিযোগ এনে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করে আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ গাম্বিয়া। আদালতের কাছে দাখিলকৃত এক প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায় মিয়ানমার। যদিও এ প্রতিবেদনের বিস্তারিত কোনও কিছু প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে দেশের ভেতরে বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গত নির্বাচনে জয়ী সু চি ক্ষমতা নেয়ার পর এই গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে বিবাদ মেটানো কিংবা শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা বললেও শেষ পর্যন্ত তার কোনোটিই হয়নি।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সরকারের আলোচনা বন্ধ। এর মাঝে করোনাভাইরাস মহামারিতে অর্থনৈতিক সংকট সু চির জন্য নতুন মাথা ব্যথার কারণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এবারের নির্বাচনেও সু চির এনএলডির প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে লড়বে দেশটির সাবেক ও বর্তমান সেনা জেনারেল নিয়ন্ত্রিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি।

এসআইএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]