রাজস্থানের ক্ষমতায় কংগ্রেসই থাকলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:১৩ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২০

এক মাসেরও বেশি সময়ের টানাপোড়েন শেষে অবশেষ ভারতের রাজস্থান প্রদেশের ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস। দীর্ঘ চড়াই-উতরাইয়ের পর শুক্রবার বিধানসভায় আস্থাভোটে জয়লাভ করেছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার। আস্থা ভোটে জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বলেছেন, ‘আমরা আজ ঐক্যবদ্ধভাবে বিজেপির চক্রান্ত ভেস্তে দিয়েছি।’ আস্থাভোটের পর স্পিকার সিপি জোশী আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত বিধানসভার অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।

কয়েক সপ্তাহের টানাপোড়েন শেষে ১১ আগস্ট কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে শান্তি বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন রাজস্থানের ‘বিদ্রোহী’ নেতা শচিন পাইলট। বিদ্রোহের ইতি টেনে সচিন পাইলট-সহ ১৯ জন বিধায়ক কংগ্রেসে ফেরার পর বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষার ফলাফল নিশ্চিত হয়েছিল।

তবে রাজ্যের বিরোধীদল বিজেপির অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনের ঘোষণার পর আশঙ্কা তৈরি হয় সংঘাতের। রাজস্থান বিধানসভার কর্মীরা বৃহস্পতিবার রাতভর ব্যস্ত ছিলেন রক্তপাতের সম্ভাবনা এড়ানোর কাজে। বিধায়কেরা যাতে চেয়ার তুলে ছোড়াছুড়ি করতে না পারেন সেজন্য শক্ত করে শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়েছিল চেয়ার!

আনন্দবাজার বলছে, বিজেপির অনাস্থা প্রস্তাব নয়, মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের পরামর্শে শুক্রবার অধিবেশনের শুরুতে আস্থাভোটের সিদ্ধান্ত নেন রাজস্থান বিধানসভার স্পিকার জোশী। গোপন ব্যালটে ভোটাভুটির জন্য বিজেপি বিধায়কদের হট্টগোলের মধ্যেই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর অধিবেশন দুপুর ১টা পর্যন্ত মুলতবি করেন তিনি।

বিরতির পরে অধিবেশন শুরু হলে স্পিকারের নির্দেশে গেহলট মন্ত্রিসভার আস্থা প্রস্তাব পেশ করেন মন্ত্রী শান্তি ধারিওয়াল। আস্থা বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে মুঘল সম্রাট আকবরের তুলনা করেন তিনি। শান্তি বলেন, ‘মহারানা প্রতাপ বহিরাগত হামলাকারীকে প্রতিরোধ করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী অশোক একইভাবে বহিরাগত চক্রান্তকারীকে রুখে রাজস্থানকে রক্ষা করলেন।’ তার এই মন্তব্যের জেরে বিজেপি বিধায়কেরা হট্টগোল শুরু করেন। স্পিকার বারবার সংযত হওয়ার আবেদন জানানোর পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।

কংগ্রেসে যোগ দেয়া ছয়জন বিধায়কের উদ্দেশে আস্থা ভোটে অংশ না নেয়ার জন্য গতকাল হুইপ জারি করে বিএসপি। যদিও সেই নির্দেশ উপেক্ষা করেই ট্রেজারি বেঞ্চে হাজির হন তারা। ২০০ আসনের রাজস্থান বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য ১০১ বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। সচিনরা ফিরে আসার পর অন্তত ১২২টি ভোট পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিন্ত ছিল কংগ্রেস শিবির।

বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের বৈঠকে সচিন পাইলটের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেছিলেন গেহলট। নিজের অনুগামীদের পুরনো ঘটনা ভুলে যাওয়ারও বার্তা দিয়েছিলেন। সকালে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী টুইটারে লেখেন, ‘আজ বিধানসভার অধিবেশন শুরু হতে চলেছে। জয় হবে রাজস্থানের জনতার। কংগ্রেস বিধায়কদের ঐক্যে জয় হবে সত্যের। সত্যমেব জয়তে।’

এসআইএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]