নীল নদের বাঁধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তোপের মুখে ইথিওপিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:১০ পিএম, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

নীল নদের ওপর তৈরি বিশাল বাঁধ চালু করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তোপের মুখে পড়েছে ইথিওপিয়া। মিসর ও সুদানের সঙ্গে সমঝোতার আগেই বাঁধের জলাধার ভর্তি শুরু করায় পূর্ব আফ্রিকান দেশটির সহায়তা কমিয়ে দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

বলা হচ্ছে, গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ হলে এর উচ্চতা হবে স্ট্যাচু অব লিবার্টির প্রায় দ্বিগুণ, চওড়া হবে ব্রুকলিন ব্রিজের সমান, আর এর জলাধারের আকার হবে প্রায় লন্ডনের মতো। নীল নদের অন্যতম প্রধান উপনদ ব্লু নীলের ওপর তৈরি এ বাঁধটি হচ্ছে আফ্রিকার বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। শিগগিরই এটি ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, যা ইথিওপিয়ার এখনকার মোট উৎপাদনের দ্বিগুণেরও বেশি। বাঁধটি ইথিওপিয়ার পাশাপাশি আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে প্রতিবেশী দুই দেশ মিসর ও সুদানের জন্যেও। তবে এখন পর্যন্ত এটি শুধু বিরোধেরই জন্ম দিয়েছে।

মিসর তাদের ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধ পানির জন্য নীল নদের ওপর নির্ভরশীল। তারা ইথিওপিয়ার বাঁধটিকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি বলে মনে করছে। ২০১১ সালে বাঁধের নির্মাণকাজ শুরুর পরপরই কায়রো এতে বাধ সাধে, এমনকি সাবেক এক মিসরীয় প্রেসিডেন্ট এতে বোমা হামলারও প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এছাড়া, বাঁধের কাজ ক্ষতিগ্রস্ত করতে মিসরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসমর্থিত সাইবার হামলারও অভিযোগ তুলেছে ইথিওপিয়া।

Ethiopia-2

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে জলাধার কত দ্রুত পূরণ করা হবে, কতটা পানি ছাড়া হবে এবং সম্ভাব্য বিরোধ কীভাবে নিষ্পত্তি হবে তা নিয়ে বেশ কয়েকবার আলোচনায় বসেছে ইথিওপিয়া, মিসর ও সুদান। তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি তারা।

মিসর-সুদানের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত বাঁধের জলাধার ভর্তি না করতে ইথিওপিয়াকে সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই হুমকিতে পাত্তা না দিয়ে এবং বাকি দুই দেশের আপত্তি সত্ত্বেও সম্প্রতি জলাধার ভর্তির কাজ শুরু করেছে ইথিওপিয়া। এর কারণেই দেশটিকে দেয়া বিভিন্ন খাতের সহায়তা কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ঠিক কী পরিমাণ বা কোন খাতের সহায়তা কমানো হবে পারে তা এখনও নিশ্চিত করেনি হোয়াইট হাউস। তবে মার্কিন কংগ্রেসের একটি সূত্র বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, ১০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সাহায্য বন্ধ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ২৬ মিলিয়ন ডলারের তহবিল চলতি বছরেই বন্ধ হচ্ছে।

Ethiopia-2

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইথিওপিয়ান রাষ্ট্রদূত ফিতসুম আরেগা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।

আরেগা বলেন, ‘আমরা তাদের পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছি এবং অপেক্ষা করছি। আশা করি আমাদের ১১৭ বছরের সম্পর্ক এমন কোনও ইস্যুতে নষ্ট হবে না, যেটি দুই দেশের সম্পর্কিত কোনও বিষয় নয়।’

সূত্র: বিবিসি, দ্য ইকোনমিস্ট

কেএএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]