সীমান্তে ৯ মাসেই ৩ হাজারের বেশি চুক্তি লঙ্ঘন পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:০১ এএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

সীমান্ত এলাকায় শুধুমাত্র চীনা আগ্রাসনের জন্যই ভারতকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে, এমনটা নয়। দোসর হিসাবে রয়েছে পাকিস্তানের চোখরাঙানিও। পূর্ব লাদাখে লাল ফৌজের সঙ্গে ভারতীয় সেনার সংঘর্ষ ছাড়াও নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর এলাকায় স্থিতাবস্থা বিঘ্নিত করার ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।

সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করা থেকে শুরু করে অনুপ্রবেশ, সীমান্তের ও পার থেকে গোলাগুলি বর্ষণ কোনও কিছুই বন্ধ করেনি পাকিস্তান। মঙ্গলবার ভারত জানিয়েছে, কেবলমাত্র চলতি বছরের প্রথম ন’মাসেই নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর এলাকায় ৩,১৬৮ বার সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান। যা গত ১৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বার ওই চুক্তি লঙ্ঘনের নজির। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ দিন সংসদে এই পরিসংখ্যান উপস্থান করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্রীপদ নাইক।

ভারতের দাবি, ৭৭৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর এলাকায় গত ১ জানুয়ারি থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমার মধ্যে তিন হাজারেরও বেশিবার সংঘর্ষবিরতি চুক্তি ভেঙেছে পাকিস্তান। পাশাপাশি, জম্মু ও কাশ্মীরে ১৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী এলাকাতেও উত্তেজনা ছড়ানো বন্ধ করেনি তারা।

ওই এলাকায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে ২৪২ বার সীমান্তের ওপার থেকে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। কামান থেকে শুরু করে মর্টার-হামলা বা গুলি চালনা অথবা জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঘটানো বারবার সীমান্তের ভারতের বিভিন্ন এলাকাকে নিশানা করেছে পাকিস্তান।

ভারতীয় সেনার রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৭-তে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর এলাকায় ৯৭১ বার সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছিল পাকিস্তান। পরের বছর তা বেড়ে হয়েছিল ১,৬২৯ বার। তবে চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত সেসব নজিরই ভেঙে দিয়েছে তারা। তাদের দাবি, গত বছর বালাকোটে ভারতের অভিযানের পরই নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর এলাকায় নিশানার মাত্রা তীব্র করে পাকিস্তান। এরপর সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা খর্ব করার পরও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

ভারতের দাবি, চলতি বছরের প্রায় প্রতি মাসেই গড়ে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ বার সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের চেষ্টা করছে পাকিস্তান। ‘পাকিস্তান অবশ্যই তার ‘বন্ধু’ চীনকে সমর্থন করে চলেছে। তাছাড়া, শীতকালে তুষারপাত শুরু হলে জম্মু-কাশ্মীরের রাস্তা বন্ধ হওয়ার আগে সেখানে জঙ্গির অনুপ্রবেশ ঘটানো এবং অস্ত্রশস্ত্র ঢোকানোরও চেষ্টা করছে’।

তবে পাকিস্তানের চেষ্টা ব্যর্থ করার জন্য ভারতীয় সেনা যে তৎপর, তা-ও উল্লেখ করেছেন তিনি। এক সেনাকর্তার মন্তব্য, ‘পাকিস্তানের প্রতিটি সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন ও হামলার যোগ্য জবাব দিয়েছে আমাদের সেনা’।

গত মে মাসে পূর্ব লাদাখে ভারত-চীন সেনা সংঘর্ষের পর কূটনৈতিক স্তরে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করেছে দু’পক্ষই। তবে এ ব্যাপারে চীনের সদিচ্ছা নিয়ে বারবারই প্রশ্ন উঠেছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর এলাকায় দু’দেশই নজরদারি চালায়। চীনা আগ্রাসনের পর ভারত সেখানে অন্তত ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। তবে চীনা আগ্রাসন ঠেকাতে গিয়ে পাকিস্তানের চোখ রাঙানিকেও অগ্রাহ্য করছে না ভারত।

এমআরএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]