যুক্তরাজ্য থেকে ৪২ বছর পর ভারতে ফিরল চুরি যাওয়া মূর্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:১০ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর মন্দির থেকে ৪২ বছর আগে চুরি যাওয়া মূর্তি অবশেষে ভারতকে ফিরিয়ে দিল যুক্তরাজ্য। মন্দির থেকে চুরি হওয়া তিনটি ব্রোঞ্জের মূর্তি হিন্দুদের দেব-দেবী রাম, সীতা ও লক্ষ্মণের মূর্তি। ১৯৭৮ সালে তামিলনাডুর নাগাপাট্টিনামের একটি বিষ্ণু মন্দির থেকে মোট চারটি মূর্তি চুরি হয়েছিল।

চতুর্দশ থেকে সপ্তদশ শতক পর্যন্ত দক্ষিণ ভারতের একাংশ বিজয়নগর সাম্রাজ্যের শাসনাধীন ছিল। পঞ্চদশ শতকে বিজয়নগর সাম্রাজ্যের আমলে তৈরি করা হয়েছিল অমূল্য এসব মূর্তি। চুরি যাওয়ার পর দীর্ঘদিন তদন্ত হয়েছে। সে সময় মূর্তি চুরির ওই ঘটনায় চোরদের শাস্তি হলেও মূর্তিগুলোর খোঁজ মেলেনি।

২০১৯ সালে ইন্ডিয়ান প্রাইড প্রজেক্ট লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনকে জানায়, মূর্তিগুলো সম্ভবত যুক্তরাজ্যে আছে। চার দশক পর অবশেষে এক ব্রিটিশ ব্যবসায়ীর কাছে মূর্তিগুলো থাকার খবর পেয়ে লন্ডনে ভারতীয় হাই কমিশন লন্ডন পুলিশকে তা জানায়। এরপর তামিলনাড়ু পুলিশ লন্ডনে বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্ট পাঠিয়ে দেয়।

India

তদন্ত প্রতিবেদন পেয়ে শুরু হয় লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্ত। তারা মূর্তিটি কার কাছে আছে তা খুঁজে বের করেন। লন্ডন পুলিশই ভারতীয় হাইকমিশনকে জানায়, ওই ব্যক্তির কাছে মূর্তি ফিরিয়ে দেয়ার অনুরোধ করতে। ওই ব্যবসায়ী এক সময় মূর্তিটি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

তবে লন্ডনের ওই শিল্প সংগ্রাহক ওই মূর্তিগুলো যার কাছ থেকে কিনেছিলেন, তিনি বেঁচে নেই। কেনার আগে আর্ট লস রেজিস্টার সার্টিফিকেটে চেকও করে নিয়েছিলেন তিনি। হাইকমিশনের অনুরোধ রেখে তিনি তিনটি মূর্তি ফিরিয়ে দেন। মুর্তিগুলো ফেরত পাওয়ার পর তামিলনাড়ু সরকারকে দিয়ে দেয়া হয়েছে।

লন্ডনে ভারতীয় হাই কমিশন জানিয়েছে, তারা এ রকম আরও বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা নিয়ে কাজ করছে। আগামী দিনে সেই মূর্তিগুলোও উদ্ধার করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

হাইকমিশন এর আগে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ রানি কা ভাও থেকে চুরি করা ব্রহ্মা মূর্তি, দ্বাদশ শতকে বুদ্ধের ব্রোঞ্জ মূর্তি, সপ্তদশ শতকের কৃষ্ণমূর্তি এবং দ্বাদশ শতকের কারুকার্য করা স্তম্ভ ভারতে ফিরিয়ে আনতে পেরেছে।

এসএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]