করোনাকালেও ভারতে নতুন ১৫ বিলিয়নিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:২৫ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

করোনাকালে ভারতের জিডিপির সংকোচন ছিল গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মহামারির কবলে কাজ হারিয়েছেন ৪১ লাখ মানুষ। কিন্তু এই সংকটকালেও দেশটিতে গত ছয় মাসে নতুন ১৫ জন শত কোটিপতি (বিলিওনিয়ার) তৈরি হয়েছে। বিখ্যাত সাময়িকী ফোর্বস প্রকাশিত তালিকায় এ তথ্য দেখা যাচ্ছে।

ফোর্বস এর ‘রিয়েল টাইম বিলিওনিয়ার’ তালিকায় আপাতত মোট ১১৭ জন ভারতীয়ের নাম রয়েছে। অথচ মার্চে এই সংখ্যাটা ছিল ১০২। ভারতের ১১৭ ধনকুবেরের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। একে ধনী-গরিবের মধ্যে পার্থক্য আরও বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ হিসেবেই দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন এশিয়ার শীর্ষ ধনী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের এই কর্ণধার মুকেশ অম্বানি। তার মোট মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৮ হাজার ৮২০ কোটি ডলার। ভারতে দ্বিতীয় স্থানে এইচসিএল টেকনোলজিস-এর প্রতিষ্ঠাতা কর্ণধার শিব নাদার। ২ হাজার ৬০ কোটি ডলার নিয়ে বিশ্বে তার অবস্থান ৬৪।

এরপর ভারতীয় ধনকুবেরদের তালিকায় যথাক্রমে রয়েছেন আদানি গ্রুপের কর্ণধার গৌতম আদানি, কোটাক মহিন্দ্রা গ্রুপের কর্ণধার উদয় কোটাক, ডিমার্ট-এর কর্ণধার রাধাকৃষ্ণ দামানি ও তার পরিবার, সিরাম ইনস্টিটিউটের কর্ণধার সাইপ্রাস পুণাওয়ালার মতো ব্যবসায়ীরা।

ভারতীয় শত কোটিপতিদের তালিকায় সবচেয়ে নীচে আপাতত ওয়েলস্প্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান বালকৃষ্ণ গোয়েঙ্কা। তার সম্পত্তির পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার। ক্রমান্বয়ে উপরে রয়েছেন রাধেশ্যাম আগরওয়াল, রাধেশ্যাম গোয়েনকা, বিনি বনসল, মুরলীধর বিমল কুমার জ্ঞানচন্দানি। তারাও বিলিয়নিয়ার।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ভারতের অর্থনীতি যে ভয়ঙ্কর মন্দার মুখে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় সম্প্রতি। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি সংকুচিত হয়েছে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ। গত ৪০ বছরের ইতিহাসে জিডিপি পতনের এমন নজির নেই। লকডাউনের জেরে দেশটিতে বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের যৌথ সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী লকডাউনের জেরে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারতে মোট ৪১ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছেন।

আর্থিক সংকটের এমন ভয়াবহ অবস্থার মধ্যেও গুগল, ফেসবুক, সিলভার লেকের মতো অন্তত ১২টি কোম্পানি বিপুল বিনিয়োগ করেছে মুকেশ অম্বানির রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে। অন্য বহু সংস্থা ছোটখাটো বিনিয়োগ পেয়েছে। অনলাইন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর মূলধন বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লকডাউনের কারণে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি। ব্যবসার দিকে থেকে সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছে এমএসএমই বা ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। অর্থনীতির এমন অবস্থার মধ্যেও করোনাকালে ভারতে জন্ম হয়েছে ১৫ জন নতুন শত কোটিপতির।

সূত্র : আনন্দবাজার

এসএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]