মোদির জন্মদিনে ‘বেকারত্ব দিবস’ পালন তরুণদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:০৩ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

একদিকে বিরাট কোহালি, অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ-সালমান-আমির খান, চেতন ভগৎ। অন্যদিকে দেশের আমজনতা। সেলিব্রিটিরা যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা দিচ্ছেন, আমজনতা সেই টুইটারে দাবি তুললেন- ‘চাকরি চাই’।

বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেতে অর্থনীতির উন্নতি চাই। চাই সীমান্তে নিরাপত্তা। দিনের শেষে সংখ্যার বিচারে #হ্যাপিবার্থডেমোদিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে #ন্যাশনালআনপ্লয়মেন্টডে।

আজ ছিল মোদির ৭০তম জন্মদিন। অতীতে জন্মদিনের সন্ধ্যায় ঝটিকা সফরে মায়ের সান্নিধ্য পেতে আহমেদাবাদে উড়ে যেতে দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রীকে। করোনাকালে সে ঝুঁকি নেননি প্রধানমন্ত্রী। আজ দুপুর থেকে সংসদে থাকলেও কোনো কক্ষেই যাননি। সংসদে তার ঘরে দলের সাংসদেরা দলে দলে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে যান।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ‘সেবা শপথ’ কর্মসূচি নিয়েছিলেন কর্মী-সমর্থকেরা। আগামী এক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রক্তদান শিবির, সাফাই অভিযান, দুঃস্থদের খাবার খাওয়ানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। নেতার জন্মদিন উপলক্ষে ‘লর্ড অব দ্য রেকর্ডস’ বলে একটি বই প্রকাশ করেন সভাপতি জে পি নড্ডা। বলেন, ‘দলের প্রত্যেকে যাতে বইটি পান ও পড়েন সেই লক্ষ্য নিয়েছে দল’।

কিন্তু গোটা উদযাপনে আজ চোনা ফেলে দিয়েছে টুইটারের একটি ট্রেন্ড। #ন্যাশনালআনএমপ্লয়মেন্টডে নামে ওই হ্যাশট্যাগে আজ এত যুবক টুইট করে সরকারের সমালোচনা করেছেন, তাতে চিন্তায় বিজেপিও। করোনাকালে নিট পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়ে ছাত্র-সমাজের যে অসন্তোষ রয়েছে, তা প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে ডিজলাইক স্পষ্ট হয়েছিল।

আজ তার জন্মদিনেই এই অসন্তোষ চিন্তার বিষয় বলে মনে করছেন অনেকেই। সামনে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন। বিহারে সরকার ধরে রাখার লড়াইয়ে নামছে এনডিএ। ঘনিষ্ঠ মহলে বিজেপি নেতারাও স্বীকার করছেন, সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে মানুষের। যদিও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি বিজেপি।

দলের পক্ষ থেকে ওই হ্যাশট্যাগ প্রচার চালানোর জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করা হয়। পাল্টা জবাবে আজ কংগ্রেস কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন, ‘নিষ্ঠুর শাসকও জন্মদিনে উদার হয়। আর তিনি জন্মদিনে কৃষিতে কালা কানুন আনলেন’।

জন্মদিনে অভিনন্দন এসেছে বিদেশ থেকেও। ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। জার্মান চ্যান্সেলার আঙ্গেলা ম্যার্কেল ‘ডিয়ার নরেন্দ্র’-কে জার্মান ও ইংরেজি দু’ভাষাতেই অভিনন্দন জানান। অভিনন্দন জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও।

সম্প্রতি নানা বিষয়ে বিবাদ চললেও ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। তবে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে কোনও শুভেচ্ছা আসেনি বেইজিং থেকে। নীরব ইসলামাবাদও।

এমআরএম/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]