সন্তানের পরিচয়পত্রে যুক্ত হচ্ছে আফগান নারীদের নাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫০ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

সন্তানের জাতীয় পরিচয় পত্রে এখন থেকে যুক্ত হতে যাচ্ছে আফগান মায়েদের নাম। পরিচয়ের ক্ষেত্রে নারীর নাম নিয়ে দেশটির সমাজে বিদ্যমান কুসংস্কারের বিরুদ্ধে একটি ক্যাম্পেইন চলার পর বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি আইনের সংশোধনীতে স্বাক্ষর করেছেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। খবর বিবিসির।

আইনটি কার্যকর হওয়ার পর্যন্ত আফগানিস্তানের আইনে নির্দেশনা রয়েছে যে, সন্তানের জাতীয় পরিচয়পত্রে শুধু বাবার নাম থাকবে। প্রকাশ্যে সেখানে নারীর নাম প্রকাশে ঐতিহ্যগতভাবে মানুষের আপত্তি রয়েছে এবং এটাকে তিরস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশটির নারীরা সার্বিকভাবে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত।

চিকিৎসকের কাছে গিয়ে প্রেসক্রিপশন পেতে নিজেদের নাম ব্যবহার করার কারণে অনেককে মারধরসহ নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে তিন বছর আগে #হোয়্যারইজমাইনেম হ্যাশট্যাগে একটি ক্যাম্পেইন শুরু হলে এতে সমর্থন দিয়ে তারকা এবং বেশ কিছু সংসদ সদস্য এর পক্ষে কথা বলেন।

ক্যাম্পেইনে সন্তানের পরিচয়পত্রে বাবার সঙ্গে মায়ের নাম যুক্ত করার দাবি জানানো হয়। ২০০১ সালে আফগান তালেবানের পতনের পর থেকে নারীর অধিকার নিয়ে প্রায় দুই দশকের অগ্রগতির ফল এই আইন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে নিজের নামের সঙ্গে মায়ের নাম ব্যবহার করে নিজেকে পরিচয় দিতে দেখা যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট এ সংক্রান্ত আইনের সংশোধনীতে স্বাক্ষর করার পর #হোয়্যারইজমাইনেম ক্যাম্পেইনের প্রতিষ্ঠাতা নারী লালেহ ওসমানি বিবিসিকে বলেন, ‘দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পর এমন ফলাফলে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। কোনও সন্দেহ নেই যে সবার ঐক্যবদ্ধ অবিরাম সংগ্রামের ফসল আজকে আমাদের এই বিজয়।’

আফগান নারীদের অধিকার বঞ্চিত হওয়ার শুরু কন্যাসন্তান হিসেবে জন্মের পর থেকেই। বহু বছর পর্যন্ত তাদের তো কোন নামই থাকে না। কন্যাসন্তানের নাম দিতেই গড়িয়ে যায় বছরের পর বছর। এরপর যখন বিয়ে হয়, বিয়ের আমন্ত্রণপত্রে কোথাও তার নাম উল্লেখ করা হয় না। অসুস্থ হলে প্রেসক্রিপশনেও থাকে না তার নাম।

এমনকি একজন নারী যখন মারা যায়, তখন মৃত্যু সনদেও তার নাম লেখা হয় না। এমনকি কবরের স্মৃতিফলকেও সে নামহীনই থেকে যায়। সে কারণেই আন্দোলনের নাম তারা দিয়েছেন ‘হোয়্যারইজমাইনেম?’ বা কোথায় আমার নাম?‘ তাদের দাবি ছিল, নিজের নাম প্রকাশ করার স্বাধীনতা।

Afgan

চলতি মাসের শুরুতে আফগান সংসদে দেশটির নারীদের অধিকার রক্ষার পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার সঙ্গে মায়ের নামও যুক্ত করার জন্য সংসদে সংশ্লিষ্ট আইনটি সংক্রান্ত সংশোধনী বিলটি পাস করে। এরপর প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা সেই আইন সংশোধন করা হলো।

এসএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]