সুপ্রিম কোর্টে ‘প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টায়’ ব্যতিব্যস্ত ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:১৭ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

উদারপন্থী বিচারপতি রুথ বেডার জিন্সবার্গের মৃত্যুর পর মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে তার উত্তরসূরী নিয়োগে বিলম্ব করতে চান না ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাকি মাত্র দেড় মাসের মতো, অর্থাৎ বিচারপতি নিয়োগের স্বাভাবিক সময়ও হাতে নেই। তারপরও তাড়াহুড়ো করে হলেও নিজপক্ষের কোনও বিচারপতিকে জিন্সবার্গের জায়গায় বসাতে চাচ্ছেন ট্রাম্প। এক্ষেত্রে চলতি সপ্তাহেই নিজের মনোনীত বিচারপতির নাম ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত শুক্রবার ৮৭ বছর বয়সী জিন্সবার্গের মৃত্যুর কারণে হঠাৎ করেই নতুন হিসেব-নিকেশ শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে। যেকোনও আইন পাসের জন্য দেশটিতে সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্যানেলে রয়েছেন মোট নয়জন সদস্য। তারা সাধারণত আজীবন বা যতদিন স্বেচ্ছায় অবসর না নেন, ততদিন দায়িত্ব পালন করেন। সুপ্রিম কোর্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ ডানপন্থী বিচারপতিরা সম্প্রতি অভিবাসন, কার্বন নিঃসরণ, সমকামী বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সরকারের পক্ষেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

jagonews24

মনোনয়নের পর কী হবে?
সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি পদের জন্য কাউকে মনোনীত করতে ‘সাংবিধানিকভাবে বাধ্য’ তিনি।

ওহিওতে এক সমাবেশে এ রিপাবলিকান নেতা বলেন, ‘পাঁচজন অবিশ্বাস্য জুরির দিকে নজর রয়েছে আমাদের... যে নারীরা সব দিক থেকেই অসাধারণ।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সিনেটের। জুডিশিয়ারি কমিটি প্রথমে মনোনয়ন পুনর্মূল্যায়ন করবে, এরপর তা সিনেটে পাঠাবে পূর্ণাঙ্গ ভোটের জন্য।

মার্কিন সিনেটে বর্তমানে ৫৩-৪৭ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানরা। ফলে সেখানে ট্রাম্পের মনোনীত ব্যক্তির নিয়োগ নিশ্চিত হতে তেমন কোনও বাধা থাকার কথা নয়।

তাছাড়া, সিনেটের রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল জানিয়েছেন, নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই বিচারপতি নিয়োগের পক্ষে তিনি। যদিও এ ঘোষণার কারণে ডেমোক্র্যাটরা তাকে ভণ্ড বলে মন্তব্য করেছেন।

jagonews24

২০১৬ সালে বিচারপতি আন্তোনিন স্ক্যালিয়ার মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মনোনীত বিচারপতিকে নিয়ে সিনেটে ভোট আয়োজনে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন ম্যাককনেল। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র মাসখানেক বাকি থাকায় সেসময় রিপাবলিকান সিনেটর দাবি করেছিলেন, ওই মুহূর্তে বিচারপতি নিয়োগ দেয়া ঠিক হবে না।

তবে অনেকটা একই পরিস্থিতি হলেও এবার মত বদলে ফেলেছেন ম্যাককনেল। তার দাবি, সিনেট ও হোয়াইট হাউস উভয়ই রিপাবলিকানদের দখলে থাকায় এবার বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সমস্যা নেই।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগে কতদিন লাগে?
বিচারপতি মনোনয়ন থেকে শুরু করে নিশ্চিতকরণ পর্যন্ত সাধারণত মাসখানেক সময় লাগলেও এর নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা নেই। এ প্রক্রিয়ায় ১৯৭৫ সাল থেকে গড়ে ৭০ দিন সময় লেগেছে।

jagonews24

তবে এবার নির্বাচনের বাকি মাত্র কয়েক সপ্তাহ। সবশেষ এত দ্রুত বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয়েছিল জিন্সবার্গকেই। ১৯৯৩ সালে তার নিয়োগ নিশ্চিত হতে সময় লেগেছিল ৪২ দিন।

প্রতিক্রিয়া কী?
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, বিচারপতি নিয়োগ নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়ায় তিনি হয়তো প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতে পারেন। লক্ষ্যভেদ করার মতো তির হাতে আছে জানালেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি ওয়াশিংটনের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী এ ডেমোক্র্যাট।

এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন বিচারপতি নিয়োগে তাড়াহুড়োর ঘটনাকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে অভিযোগ করেছেন। গত রোববার তিনি বলেছেন, ‘এগুলো শুধু যে ক্ষমতার জন্যই, ট্রাম্প সেটি পরিষ্কার করে দিয়েছেন।’

ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেছেন, ‘মিচ ম্যাককনেল এবং তার ভৃত্যরা বিশ্বাস করেন যে, নির্বাচন থেকে মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে তারা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ সম্পন্ন করতে পারবেন। কিন্তু ম্যাককনেল বুঝতে পারছেন না, এ লড়াই সবে শুরু হলো মাত্র।’

jagonews24

আলোচনায় কারা?
গত শনিবার নর্থ ক্যারোলিনায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জিন্সবার্গের জায়গায় আরেক নারীকেই নিয়োগ দেবেন তিনি। এর আগেও মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগ দেয়ার মতো সম্ভাব্য দুই নারীর ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন এ রিপাবলিকান নেতা।

সম্প্রতি রক্ষণশীল দুই বিচারককে ফেডারেল আপিল আদালতে নিয়োগ দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগের ক্ষেত্রে তৃতীয় বিচারপতিকে বেছে নেয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে। সেক্ষেত্রে শিকাগো-ভিত্তিক ৭ম সার্কিটের কোনি বেরেট ও আটলান্টা-ভিত্তিক ১১তম সার্কিটের বারবারা লাগোয়ার নাম উঠে আসছে আলোচনায়।

ইতোমধ্যেই হোয়াইট হাউসে কোনি বেরেটের সঙ্গে একান্ত বৈঠকও করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সূত্র: বিবিসি

কেএএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]