অস্ট্রেলিয়ায় সমুদ্রতীরে আটকা পড়ে প্রায় ৪০০ তিমির মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:০১ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া উপকূলে আটকা পড়ে প্রায় ৪০০ পাইলট তিমি মারা গেছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, এটাই দেশটির সমুদ্রতীরে সর্বোচ্চ সংখ্যক তিমির মৃত্যুর ঘটনা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, গত সোমবার থেকে তাসমানিয়ার পশ্চিম উপকূলে শত শত তিমি আটকা থাকতে দেখা যায়। উদ্ধারকারীরা প্রথমে ২৭০টি পাইলট তিমি গণনা করেছিলেন। পরে মঙ্গলবার হেলিকপ্টার থেকে ওই এলাকায় আরও অন্তত ২০০ তিমি আটকে থাকতে দেখা যায়।

উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, বুধবার পর্যন্ত তারা ৫০টি তিমিকে সাগরে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন। আরও প্রায় ৩০টিকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।

whales-3

তাসমানিয়া সরকার জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত উপকূলে জীবিত প্রাণী (তিমি) থাকবে, ততক্ষণ উদ্ধার অভিযান চলবে।

তাসমানিয়ার প্রাথমিক শিল্প বিভাগের কর্মকর্তা নিক ডেকা বলেন, তারা (তিমি) যতক্ষণ পানিতে ও জীবিত রয়েছে, ততক্ষণ আশা আছে। কিন্তু যত সময় যাচ্ছে তারা ততটা ক্লান্ত হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পাইলট তিমি সাধারণত ২২ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। এর ওজন হতে পারে তিন টন (তিন হাজার কেজি)। পানিতে না থাকলে নিজেদের শরীরের ওজনই তাদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে ওঠে।

তিমিদের তীরে উঠে আসার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও অজানা। তবে ধারণা করা হয়, মাছের কারণে প্রলুব্ধ হয়ে তারা তীরের কাছাকাছি চলে আসে এবং একপর্যায়ে স্রোতের টানে বালুতটে আটকে যায়।

whales-3

ঝাঁক ধরে তীরে আটকে পড়ার ক্ষেত্রে পাইলট তিমির পরিচিতি রয়েছে। কারণ এরা সাধারণত দলবেঁধে চলাফেরা করে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, দলপতিকে অনুসরণ করেই সম্ভবত তিমির দলটিকে ভুলক্রমে তাসমানিয়া উপকূলে উঠে এসেছিল।

অস্ট্রেলিয়া উপকূলে তিমি আটকা পড়ার ৮০ ভাগ ঘটনাই ঘটে তাসমানিয়ায়। এক্ষেত্রে ম্যাকুয়ের হেড পরিচিত হটস্পট।

whales-3

১৯৩৫ সালে এই উপকূলে ২৯৪টি পাইলট তিমি উঠে এসেছিল। ২০০৯ সালেও সেখানে দুই শতাধিক তিমি আটকা পড়ার ঘটনা ঘটে।

১৯৯৬ সালে সর্বোচ্চ ৩২০টি তিমি উঠে আসার রেকর্ড হয়েছিল পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায়। তাসমানিয়ার এবারের ঘটনাটি সেই রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে।

কেএএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]