ইন্দোনেশিয়ার বেশিরভাগ নাগরিকই চান সরকারি চাকরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩৫ এএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

সরকারি চাকরি যেন সোনার হরিণ। অন্তত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তেমনটাই মনে করা হয়। কিন্তু শুধু বাংলাদেশেই নয় বরং, পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই সরকারি চাকরি পাওয়াটা যেন একটা স্বপ্ন।

ইন্দোনেশিয়াও এর ব্যতিক্রম নয়। দেশটির অধিকাংশ মানুষই সরকারি চাকরির পেছনে হন্যে হয়ে ঘোরেন। কোনভাবে একটা সরকারি চাকরি পেয়ে গেলে যেন আর কোনো চিন্তাই থাকে না।

ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দা বুডি (ছদ্মনাম)। তিনি কর সংগ্রাহক হিসেবে চাকরি পেয়েছেন। তার কাছে মনে হচ্ছিল যেন বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ হলো। ২০১৩ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক অর্জন করেছেন।

এরপর তিনি তার পৈতৃক নিবাস এন্ডে একটি ছোট চাকরি শুরু করেন। এটি ফ্লোরস দ্বীপের একটি ছোট্ট শহর। ওই শহরে ছোটখাট একটা চাকরি পাওয়াও সহজ ছিল না।

সেখানে জাহাজ থেকে মাল নামানো এবং মাল বোঝাইয়ের কাজ করতেন তিনি। কিন্তু দিন শেষে এই কাজে কোনো সম্মান ছিল না। কিন্তু সরকারি চাকরিতে সম্মানের পাশাপাশি নির্দিষ্ট বেতন এবং পেনশন সুবিধার প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন তিনি।

এসবের বাইরেও বুডির কাছে যেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো এই চাকরির কারণে সামাজিকভাবে তিনি অনেক বেশি সম্মান পাচ্ছেন যা আগে হয়নি। তিনি যখন তার কর্মক্ষেত্রের সরকারি পোশাক পরে প্রথম বের হয়েছিলেন তখন লোকজন তাকে ভিন্ন চোখে দেখতে শুরু করেন।

তিনি বলেন, এটা ছিল ওই শহরের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানজনক একটি চাকরি। সে কারণে বুডি নিজেকে বেশ সৌভাগ্যবান মনে করেন। এদিকে, ইন্দোনেশিয়ায় প্রতি বছরই সরকারি চাকরি প্রত্যাশীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

গত বছর সরকারি চাকরির বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় দেড় লাখ পদের জন্য আবেদন করেছে ৪২ লাখ মানুষ। এর মধ্যে অনেকের স্বপ্ন পূরণ হলেও বেশিরভাগই হতাশ হয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ায় তরুণদের একটি চাকরি পাওয়া বেশ কঠিন বিষয়।

দেশটিতে এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত বছর ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী ২৬ শতাংশ তরুণ বেকার হয়ে পড়েছেন। অপরদিকে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ১৬ শতাংশই স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে।

বেশিরভাগ দরিদ্র প্রদেশগুলোতে সরকারই সবচেয়ে বড় চাকরিদাতা। সরকারি চাকরির বেতন অনেক ক্ষেত্রেই বেসরকারি চাকরির চেয়েও বেশি। সেখানে চাকরি মানেই জীবন।

এছাড়াও সরকারি চাকরি একটি বড় সুযোগ হচ্ছে যে কেউ চাইলেই চাকরি থেকে বের করে দিতে পারেন না। যা বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে হরহামেশাই ঘটে থাকে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক তার ইচ্ছা হলেই চাকরি থেকে বের করে দিতে পারেন।

টিটিএন/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]