ট্রায়াল শেষের আগেই চীনের বিরুদ্ধে গোপনে করোনা টিকা দেয়ার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৫১ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল হাতে আসার আগেই দেশের হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে করোনার সম্ভাব্য টিকা দেয়া শুরু করেছে চীন। গোটা বিষয়টাই পরিচালিত হচ্ছে অত্যন্ত গোপনে। চীনের বিরুদ্ধে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে নিউইয়র্ক টাইমসে।

মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যাদের করোনা টিকা দেয়া হচ্ছে, তাদের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মী, টিকা প্রস্তুতকারী সংস্থার কর্মী ও সদস্যরাও রয়েছেন।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গোটা বিষয়টি গোপন রাখার স্বার্থে যাদের টিকা দেয়া হচ্ছে, তাদের প্রথমেই ‘নন-ডিসক্লোজার’ চুক্তিপত্রে সই করিয়ে নেয়া হচ্ছে। এই ‘নন-ডিসক্লোজার’ চুক্তিপত্রে সই করার ফলে টিকা যারা নিচ্ছেন, তারা কেউই আর কোনও সংবাদমাধ্যমে তথা প্রকাশ্যে এ নিয়ে মুখ খুলতে পারবেন না।

করোনার প্রতিষেধক নিয়ে গবেষণাকারী চীনের সরকারি সংস্থা সিনোফার্ম জানিয়েছে, কয়েক হাজার মানুষের শরীরে ইতোমধ্যে টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। দেশটির অন্য একটি প্রতিষেধক প্রস্তুতকারী সংস্থা সিনোভ্যাক জানিয়েছে, শুধু বেজিংয়েই দশ হাজারের বেশি মানুষের দেহে তাদের তৈরি টিকা পুশ করা হয়েছে।

করোনার সম্ভাব্য ১১টি টিকা নিয়ে চীনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এর মধ্যে চারটি ইতোমধ্যে তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালাচ্ছে। যাদের ওপর এই ট্রায়াল চলছে, সর্বক্ষণ তাদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। টিকা প্রয়োগের পর তাদের শরীরে কী কী পরিবর্তন ঘটছে, সে দিকে কড়া নজর রাখা হয়েছে।

অবশ্য হাজার হাজার সাধারণ মানুষের ওপর করোনার টিকা প্রয়োগের ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া মেনে চলা হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

মার্কিন সংবাদপত্রের অভিযোগ উড়িয়ে চীনের দাবি, দেশের জনসংখ্যার একটা বড় অংশের মধ্যে পরীক্ষামূলক ভাবেই করোনার টিকা প্রয়োগ করা হচ্ছে।

টিকা প্রয়োগের এই সিদ্ধান্তে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুমোদন রয়েছে জানিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের কর্মকর্তা ঝেং ঝোংউই বলেন, জুলাই মাস থেকে তারা এই পরীক্ষা চালিয়ে আসছেন। এর আগেই জুন মাসে বিষয়টি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানানো হয়েছিল।

এসএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]