উত্তরপ্রদেশে গণধর্ষণে আরও এক দলিত নারীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৩৫ এএম, ০১ অক্টোবর ২০২০

ভারতের উত্তরপ্রদেশে ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। মাত্র কয়েকদিন আগেই ওই রাজ্যের হাথরাস এলাকায় এক দলিত নারীকে গণধর্ষণ করা হয়। ১৫ দিন হাসপাতালে লড়াইয়ের পর মৃত্যুর কাছে হার মেনেছেন ওই নারী।

মাঝরাতে ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের কিছু না জানিয়েছেই তার মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চিতার আগুন নিভলেও দেশজুড়ে জ্বলছে ক্ষোভের আগুন। এখনও সেই ঘা শুকায়নি। এর মধ্যেই আরও এক দলিত নারীকে গণধর্ষণের খবর সামনে এলো।

হাথরাস থেকে প্রায় ৫শ কিলোমিটার দূরেই ওই ঘটনা ঘটেছে। ২২ বছর বয়সী এক দলিত তরুণীকে মারধর ও গণধর্ষণ করা হয়েছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্ষণের শিকার বলরামপুরের ওই নারীকে লক্ষ্নৌর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার মৃত্যু হয়েছে।

পোস্টমর্টেমের রিপোর্টে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ওই নারীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। শরীরে মারাত্মক জখম নিয়ে মারা গেছেন তিনি। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত দু'জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ওই নারীর মা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে কাজের জন্য বের হয়েছিলেন তার মেয়ে। এরপরই তাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। সে সময় মতো বাড়ি ফিরছিল না দেখে তার পরিবার পুলিশের কাছে যায়।

পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ি ফেরে সে। অভিযুক্তরাই একটি রিক্সায় করে তাকে বাড়ি পাঠিয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই নারীর পা ও স্পাইনাল কর্ড ভাঙা ছিল। অজ্ঞান অবস্থাতেই তাকে রিক্সায় তুলে দেওয়া হয়েছিল।

পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ ধর্ষণের আগে মাদক দেওয়া হয়েছিল ওই নারীকে। এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব।

এদিকে, হাথরাসে ধর্ষণের ঘটনায় এখনও ক্ষোভ থামেনি। ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর টানা ১৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গতকাল মঙ্গলবার দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে মৃত্যু হয় দলিত পরিবারের ১৯ বছর বয়সী ওই তরুণীর।

এরপর হাসপাতাল থেকে মরদেহ পাওয়া নিয়েও পুলিশের সঙ্গে ঝামেলা বাঁধে পরিবারের। ওই ঘটনার পর পুলিশ এ সংক্রান্ত অভিযোগ নেয়ার ক্ষেত্রে গড়িমসি করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, মাঝরাতে বাড়িতে ঢুকে তরুণীর মরদেহ নিয়ে যায় পুলিশ। আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীরা বাধা দিতে গেলে ঘরে ঢুকিয়ে তালা মেরে রাখা হয় তাদের। এরপর তরুণীর বাবাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে সেখান থেকে সোজা শ্মশানে নিয়ে গিয়ে নির্যাতিতার মরদেহ দাহ করে ফেলা হয়।

টিটিএন

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]