তুরস্ককে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৫৪ পিএম, ০২ অক্টোবর ২০২০

সামুদ্রিক সীমানা এবং জ্বালানি সম্পদ নিয়ে গ্রিসের সঙ্গে বিবাদের জেরে উসকানি ও বল প্রয়োগের অভিযোগে তুরস্ককে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে একতরফা পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকার জন্য আঙ্কারাকে প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন ইইউ প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন।

শুক্রবার ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠককালে উরসুলা ভন ডার লেয়েন এমন হুমকি দেন বলে বিবিসির অনলাইন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অবশ্য আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত কমানো ও নিরসনের লখ্যে এর আগে তুরস্ক এবং গ্রিস পরস্পরের মধ্যে সামরিক হটলাইন চালু করেছে।

চলতি বছরের শুরুতে তুরস্ক পূর্ব ভূমধ্যসাগরের বিতর্কিত একটি এলাকায় তেল ও গ্যাস খনির খোঁজে একটি গবেষণা জাহাজ পাঠানোর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। যা এখনও চলছে।

ভন ডার লেয়েন সাংবাদিকদের বলেন যে, তুরস্কের সঙ্গে একটি ইতিবাচন ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এটা আঙ্কারার স্বার্থের জন্য অনেক বেশে অত্যাবশ্যকীয়।

তিনি আরও বলেন, ‘তবে এটা তখনই কাজ করবে যদি আঙ্কারা উসকানি দেয়া এবং বল প্রয়োগের অবস্থান থেকে সরে আসে। আমরা আশা করছি, তুরস্ক যে কোনো ধরনের একতরফা তৎপরতা থেকে এখন বিরত থাকবে। কিন্তু যদি আঙ্কার এমন তৎপরতা ফের চালায় তাহলে ইইউ তাদের হাতে থাকা সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

ডিসেম্বরে তুরস্কের আচরণ পর্যালোচনা করা ছাড়াও তুরস্ক যদি উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না করে তাহলে আঙ্কারারর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে মধ্যরাতের ওই বৈঠকে একমত হয়েছে ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলো।

বৈঠকের পর অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্টিয়ান কার্জ এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন অব্যাহত থাকায় তুরস্কের বিরুদ্ধে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিচ্ছে ইইউ।

ইউরোপীয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মাইকেল বলেছেন, ইইউয়ের পক্ষ থেকে তুরস্ককে বাণিজ্যসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রস্তাবের পাশাপাশি ভূমধ্যসাগরে উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য হুমকিও দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য আমরা খুব করে চাই রাজনৈতিক স্তরে আলোচনা হোক।’

দীর্ঘদিন থেকেই ইইউর সদস্য হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তুরস্ক। তবে এই প্রচেষ্টা এখন থমকে আছে। এ ছাড়া তুরস্কের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও আইনের শাসনের সমালোচনা করে আসছেন ইইউ নেতারা। ফলে সব মিলিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর এই জোটটির সঙ্গে আঙ্কারার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না।

এসএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]