যুদ্ধবিরতির পরও আর্মেনিয়ার গোলায় ৭ আজেরি নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:০৮ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০২০

মিনস্ক গ্রুপের সদস্য রাশিয়ার মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আজারবাইজানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর গানজায় আর্মেনিয়ার গোলাবর্ষণে ৭ নিহত ও ৩৩ জন আহত হয়েছেন। আজারবাইজানের বিরুদ্ধে গোলাবর্ষণের অভিযোগ তুলেছে আর্মেনিয়াও। তবে হতাহতের কথা জানায়নি।

টানা দুই সপ্তাহের অচলাবস্থার পর পর দশ ঘণ্টার আলোচনার পর ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরই শনিবার রাতভর এই গোলাবর্ষণের খবর প্রথম জানায় আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। আজেরি কর্তৃপক্ষ বলছে, মানবিক কারণে দেয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেই এ হামলা চালিয়েছে আর্মেনিয়া।

মন্ত্রণালয় বলছে, গানজা শহরে স্থানীয় সময় রাত ২ টার দিকে আর্মেনিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও ৩৩ জন আহত হন। আর্মেনিয়ার বাহিনী বেসামরিক এলাকায় গোলা নিক্ষেপ করেছে।

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বাকুর এ অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, আজারবাইজান নাগোরনো-কারাবাখের রাজধানী স্টেপানাকার্টসহ জনবহুল এলাকায় গোলাবর্ষণ করছে।

স্টেপানকার্টে শনিবার সন্ধ্যায় গোলাবর্ষণের কথা জানাচ্ছে আর্মেনিয়ার গণমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পাঁচ মিনিটের মাথায় আজেরি সেনারা আক্রমণ চালায়।

বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে আর্মেনিয়া-আজারবাইজান লড়াই চলছে। দুই সপ্তাহ পর পর শুক্রবার রাশিয়ার মধ্যস্থতায় মস্কোতে বিবদমান দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

শনিবার স্থানীয় সময় ১২ টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজারবাইজানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সাময়িক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে আজারবাইজানে গোলা হামলা অব্যাহত রেখেছে আর্মেনিয়া।

আর্মেনিয়াও আজারবাইজানের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তোলায় সংকটের মুখে সাময়িক যুদ্ধবিরতি। এর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে আজেরি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার টার্টার ও আগদামের বেসামরিক অঞ্চলে রকেট ও আর্টিলারি হামলা অব্যাহত রেখেছে আর্মেনিয়ার সেনারা।

এরই প্রতিশোধ নিতে আজারবাইজান পাল্টা হামলা চালায়। উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য অভিযোগ তুলেছে।

নাগোরনো-কারাবাখ আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের। তবে জাতিগত আর্মেনীয়রা ৯০’র দশক থেকে অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করছে। ওই সময় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের যুদ্ধে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন।

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর সেই নাগোরনো-কারাবাখের দখল নেয় আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনী। দুটো দেশই বিতর্কিত এই এলাকাটিকে তাদের নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার তাগিদে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত ককেশাশ অঞ্চলের দেশ দুটির মধ্যে সম্প্রতি আবারও থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছেই।

এসএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]