চীনের অর্থনীতিতে গতি ফিরলেও স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:২১ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২০

মহামারির প্রকোপ কাটিয়ে চীনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের যে গতি ফিরেছে তা আশা জাগানিয়া। সোমবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য তো উৎপাদন আর ভোক্তা ব্যয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির খবরই দিয়েছে। কিন্তু দেশটির সেই প্রবৃদ্ধি কতটা স্থায়ী হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে একটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্লুমবার্গ।

পূর্বাভাসের চেয়ে প্রবৃদ্ধি কম
গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) ৩ দশমিক ২ শতাংশের চেয়ে যা অনেকটা বেশি। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা তৃতীয় প্রান্তিকে যে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি চীন।

আশ্চর্যজনকভাবে রফতানিতে অনেকটা বাড়ায় পূর্বাভাসের চেয়ে কম প্রবৃদ্ধি এর একটা কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর চীনের রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ দশমিক ২ শতাংশ। যদিও তা জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদনের) গণনায় বাণিজ্যের নিট অবদানকে হতাশ করেছে।

ন্যাটওয়েস্ট মার্কেট পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির লিউ পেইকিয়ানের মতো অর্থনীতিবিদ বলছেন যে, সে যাই হোক এটা তবুও চাহিদার শক্তিশালী প্রবৃদ্ধিকে নির্দেশ করে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর দেয়া তথ্য অনুযায়ী তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে নিট রফতানির অবদান মাত্র ০ দশমিক ৬ শতাংশ।

চলতি বছর এ পর্যন্ত চীনের অর্থনীতির আকার বেড়েছে ০ দশমিক ৭ শতাংশ। এর অর্থ দাাঁড়াচ্ছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতি এ বছরের প্রথমার্ধে যে ক্ষতির মুখে পড়েছিলে সেখান থেকে সব ক্ষেত্রেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। গত আগস্ট থেকে খুচরা বিক্রি বাড়তে শুরু করলেও এখনও তা অনেক কম।

ভোক্তাদের আস্থা
শিল্প খাতগুলো এখনও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে ভোক্তারাও অবশেষে এর কাছাকাছি আসতে শুরু করেছে। গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ব্লুমবার্গের করা একটি জরিপে অর্থনীতিবিদদের দেয়া ১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলনের চেয়ে অবশ্য তা অনেকটাই বেশি।

এই অপ্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধির সহায়তা করেছে যানবাহন বিক্রি। কিন্তু এ বাদেও খুচরা বিক্রি ২ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বোঝা যাচ্ছে এবার হাত খুলে খরচ করছেন ভোক্তারা। তবে এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে গত বছরের তুলনায় খুচরা বিক্রির ঘাটতি এখনও ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

সম্পত্তিতে বিনিয়োগ বেড়েছে
২০১৯ সালের একই সময়ের চেয়ে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে সম্পত্তিতে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল অনেকটা ভালো। এমনকি নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে চীন সরকার এই খাতটিতে বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি জোরদার করার পরও। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমগুলো একে ‘থ্রি রেডলাইন’ বলে অভিহিত করেছিল।

রিয়েল এস্টেট খাতটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সহায়ক হয়ে দাঁড়ালেও ক্রমবর্ধমান ঋণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সম্প্রতি প্রপার্টি ডেভলপার চীন এভারগ্র্যান্ড গ্রুপ তা স্পষ্ট করেছে; গত মাসে নগদ সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল তারা।

স্থায়ী বিনিয়োগ
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংয়ের এশিয়া-প্যাসিফিকের প্রধান অর্থনীতিবিদ শন রোচে বলেছেন, ‘যদিও স্থায়ী সম্পদ বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইতিবাচক, কিন্তু অবকাঠামোগত বিনিয়োগের দুর্বল গতির বিষয়টি অবাক করার মতো। এটি ভাল প্রকল্পগুলোর সন্ধানে স্থানীয় সরকারগুলোর যে অসুবিধা রয়েছে তার প্রতিফলন।’

বিনিয়োগে এখনও চালিকা শক্তি সরকারি ব্যয়। চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিক অর্থাৎ প্রথম নয় মাসে অবকাঠামো খাতে ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ০ দশমিক ২ শতাংশ। অপরদিকে স্থায়ী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত থেকে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রথম থেকেই কমছিল। এখনও তা অব্যাহত রয়েছে।

লিভারেশ রেশিও বা মূলধনের অনুপাত
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী মোট জিডিপিতে পরিবার, অ-আর্থিক উদ্যোগ ও সরকারি ঋণের দিক থেকে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের আসল অর্থনীতিতে লিভারেজ রেশিও ২৬৯ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মহামারির প্রভাব থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করতে নীতি নির্ধারকদের নেয়া আর্থিক ও আর্থিক পদক্ষেপের প্রতিচ্ছবি। এখন দেখার বিষয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্বাভাবিক হলে এই রেশিও অনুপাতটিও স্বাভাবিক হবে কিনা।

এসএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]