পাম উৎপাদনে বাধ্যতামূলক শ্রম, পুরোনো ইস্যু বলছে মালয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:০৯ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২০

পাম উৎপাদনের কাজে শ্রমিকদের বাধ্য করা হয় বলে যে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র তুলেছে তাকে একটি পুরোনো ইস্যু হিসেবে অভিহিত করেছে পামওয়েল উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় দেশ মালয়েশিয়া। দেশটি বলছে, এর পরও অভিযোগটি পর্যালোচনা করে দেখা হবে। যদি কোনো ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন পড়ে তা নিতেও তারা প্রস্তুত।

বাধ্যতামূলক শ্রমের অভিযোগ তুলে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগ (সিবিপি) মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাম তেল উৎপাদনকারী এফজিভি হোল্ডিংসের কাছ থেকে পাম আমদানি স্থগিত করে। মালয়েশিয়া অবশ্য বলছে, তারা ধারণা করেছিল যে আরও একটি পাম রোপণ সংস্থাও নিষিদ্ধ হতে পারে।

এফজিভি হোল্ডিংসের কাছ থেকে আমদানি স্থগিতের কারণ হিসেবে সিপিবি শ্রমিকদের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন, ঋণের বোঝা ও আপত্তিজনক নানা ধরনের শর্তের কথাও তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে তখন এক বিবৃতিতে এফজিভি জানিয়েছিল, শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতির জন্য ‘দৃঢ় পদক্ষেপ’ নিয়েছিল তারা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার রোপণ শিল্প ও পণ্যদ্রব্য বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ খাইরুদ্দিন আমান রাজালি বলেন, ইতোমধ্যেই বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ স্থগিত করেছে তার দেশ।

তিনি বলেন, ‘এর পরও বাধ্যতামূলক শ্রমের বিষয়টি তোলা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম মন্ত্রণালয় যে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে তা একটি পুরোনো ইস্যু। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্প কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থাও নিয়েছে।’

এর পরও বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখে যদি কোনো পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন পড়ে তাহলে তার মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে যে কোনো ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী খাইরুদ্দিন আমান রাজালি।

করোনার বিস্তার ঠেকাতে গত জুনে বিদেশি শ্রমিকদের দেশে প্রবেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেয় বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাম উৎপাদনকারী দেশ মালয়েশিয়া। এ বছরের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এই স্থগিতাদেশ। কিন্তু উৎপাদনকারীরা বলছেন, শ্রমিক সংকটে পড়েছেন তারা এবং এতে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তবে শ্রম সংস্থাগুলোর অভিযোগ মালয়েশিয়া বাধ্যতামূলক শ্রমের শিকার হন অনেক শ্রমিক। দেশটি সংশ্লিষ্ট খাতটিতে বাধ্যতামূলক কাজ করার শর্তে শ্রমিকদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৩৪০ কোটি মার্কিন ডলারের কৃষিপণ্য রফতানি করেছে মালয়েশিয়া।

এসএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]