আজ মরুভূমি, ১৭২ হাজার বছর আগে এখানেই বয়েছিল নদী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৪৩ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০২০

থর মরুভূমির মাঝে ১৭২ হাজার বছরের প্রাচীন লুপ্ত নদীর সন্ধান পেলেন গবেষকরা। তাদের দাবি, একদা এই নদীর তীর ধরেই ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল আদিম মানুষ।

সম্প্রতি কোয়াটার্নারি সায়েন্স রিভিউ জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, থর মরুভূমির মধ্য ভাগে নল গ্রামের কাছে এক খাদানে অবলুপ্ত সেই নদীর একাধিক চিহ্ন খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকদলে ছিলেন জার্মানির দ্য ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর দ্য সায়েন্স অফ হিউম্যান হিস্ট্রি, তামিল নাডুর আন্না বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইআইএসইআর কলকাতার বিজ্ঞানীরা। তাদের দাবি, প্রস্তরযুগে থর মরুভূমি অঞ্চলের চরিত্র একেবারেই ভিন্ন প্রকৃতির ছিল।

রাজস্থানের বিকানেরে সেই আদিম নদীখাতের কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই খাদান থেকে কাছাকাছি বর্তমান নদীর দূরত্ব ২০০ কিলোমিটারের বেশি। গবেষকরা জানিয়েছেন, একদা যেখানে বয়ে নদী, আজ সেখানেই রয়েছে বিস্তীর্ণ শুকনো মরুভূমি অঞ্চল। নদীখাত সরে যাওয়ার ফলেই এই প্রাকৃতিক পরিবর্তন ঘটেছে।

গবেষকরা মনে করছেন, এ যাবৎ থর মরুভূমির মধ্যে দিয়ে কোনও নদীর বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়নি। এই নদীপথ ধরেই অতীতে একাধিক প্রজাতির পরিযোজন ঘটেছিল।

উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে তাঁরা দেখেছেন, এক সময় থর মরুভূমির উপর দিয়ে বেশ কিছু নদীখাত বয়ে গিয়েছিল। তবে ঠিক কোন সময়ে এই অঞ্চল নদীমাত্রিক ছিল, তা এখনও সঠিক নির্ণয় করা যায়নি।

আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেমা অচ্যুথানের মতে, সাক্ষ্য-প্রমাণ জোগাড় করতে হলে মরুভূমির মধ্যভাগে খনন প্রয়োজন। তবে ইতোমধ্যে অবলুপ্ত নদীর বালি ও পাথরের সন্ধান পাওয়া গেছে মাটির নীচে। নদীর স্রোতে বয়ে আসা সেই পলি বিশ্লেষণ করে দেখেছেন গবেষকরা। প্রাথমিক অনুসন্ধান বলছে, নদীর বয়ে আনা কোয়ার্টজ পাথরের কুচি প্রায় ১৭২ ও ১৪০ হাজার বছর আগে সেখানে জমা হয়েছিল।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, , ৯৫ থেকে ৭৮ হাজার বছর আগেও স্রোতস্বীনী ছিল এই নদী। এর পরেই নদীখাত শুকিয়ে যেতে থাকে। তবে ২৬,০০০ বছর আগে ফের একবার নদীর মরা খাতে স্রোত ফিরেছিল, সে প্রমাণও পাওয়া গেছে।

এনএফ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]