ট্রাম্পের ‘নীল নদ বাঁধ উড়িয়ে দেয়ার’ মন্তব্যে ক্ষিপ্ত ইথিওপিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৩২ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০২০

নীল নদের ওপর এক বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করছে ইথিওপিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেছেন, মিসর হয়তো একদিন এই বাঁধ উড়িয়ে দেবে। ট্রাম্পের এ মন্তব্য ইথিওপিয়াকে এতটাই ক্ষিপ্ত করেছে যে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তারা ‘কোন আগ্রাসনের কাছেই মাথা নত করবেন না।’

নীল নদের ওপর নির্মাণাধীন ইথিওপিয়ার এই বাঁধটির নাম গ্রান্ড ইথিওপিয়ান রেঁনেসা বাঁধ। প্রতিবেশি সুদান এবং মিসরের সঙ্গে এটি নিয়ে বহু দিন ধরেই ঝামেলা চলছে ইথিওপিয়ার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, মিসর নীল নদের ওপর এই বাঁধ মেনে নেবে না এবং হয়তো তারা এই বাঁধ গুঁড়িয়ে দেবে।

ট্রাম্পের মন্তব্যে ভীষণ ক্ষুব্ধ ইথিওপিয়া মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র মিসরের পক্ষ নিচ্ছে। গত শনিবার ইথিওপিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্যের ব্যাখ্যা চান।

গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে যে তারা ইথিওপিয়ায় কিছু সাহায্য বন্ধ করে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গত জুলাই মাসে ইথিওপিয়া এই বাঁধের পেছনের জলাধার ভরতে শুরু করার পর।

এই বাঁধ নিয়ে কেন বিতর্ক
নীল নদ হচ্ছে আফ্রিকার দীর্ঘতম নদী। মিসর বেশিরভাগ পানির চাহিদা মেটায় নীল নদ থেকে। ইথিওপিয়া বাঁধ নির্মাণ করলে মিসরের পানির সরবরাহ শুকিয়ে যাবে এবং দেশটি প্রচন্ড অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ নীল নদের পানি প্রবাহের পুরো নিয়ন্ত্রণ তখন চলে যাবে ইথিওপিয়ার হাতে।

প্রায় চারশো কোটি মার্কিন ডলার খরচ করে এই বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। বাঁধটির নির্মাণকাজ যখন শেষ হবে, তখন পশ্চিম ইথিওপিয়ার এই বাঁধ হবে আফ্রিকার বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।

বাঁধের পেছনের জলাধার ইথিওপিয়া কত দ্রুত পূর্ণ করতে চায়, তার ওপর নির্ভর করছে মিসরে এর প্রভাব। যত কম গতিতে জলাধার ভরা হবে তা মিসরের জন্য ভালো। তবে এই প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

শুধু মিশর নয়, নীল নদের ভাটিতে থাকা আরেক দেশ সুদানও এই প্রকল্প নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারাও পানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে।
jagonews24
২০১১ সালে ইথিওপিয়া এই বাঁধ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিল। তারা বলেছিল, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তাদের এই বাঁধ দরকার। এর পর উল্লিখিত এই তিনটি দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায়। এখন অবশ্য এই আলোচনা চলছে আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) মাধ্যমে।

ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী কী বলছেন?
প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ ট্রাম্পের মন্তব্যের কোন সরাসরি জবাব দেননি। তবে কেন তিনি হঠাৎ এমন কঠোর প্রতিক্রিয়া দিলেন তা খুব স্পষ্ট। তিনি অঙ্গীকার করেছেন যে ইথিওপিয়া এই বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করবেই। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘কোন ধরনের আগ্রাসনের কাছে ইথিওপিয়া মাথা নত করবে না।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘ইথিওপিয়ার মানুষ তাদের বন্ধুদের শ্রদ্ধা করে, কিন্তু কখনো তাদের শত্রুর কাছে তারা নতজানু হয়নি। আমরা এই কাজ আজকেও করবো না, ভবিষ্যতেও নয়। এ নিয়ে কোন ধরনের হুমকি দেয়া হলে সেটি হবে বিপথগামী, বিফল এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিষ্কার লঙ্ঘন।’

ইথিওপিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের তরফ থেকে ইথিওপিয়া ও মিসরের মধ্যে যুদ্ধের উস্কানি ইথিওপিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং কৌশলগত জোট, তার কোন প্রতিফলন নয়। আর আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্ক নির্ধারিত হয় যে আন্তর্জাতিক আইনে, তারও প্রতিফলন নেই তার এই মন্তব্যে।’

jagonews24

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেন এতে জড়ালেন
গত শুক্রবার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টেলিফোনে কথা বলছিলেন সুদানের প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদক এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে। সেদিন সুদানের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। এই কাজে মধ্যস্থতা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

ফোনালাপে ইথিওপিয়ার এই বাঁধ প্রকল্পের কথা তোলা হয়েছিল। ট্রাম্প এবং হামদক আশা প্রকাশ করছিলেন যে, শান্তিপূর্ণভাবে এই বিতর্কের সমাধান হবে। কিন্তু আলাপের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবার এমন মন্তব্যও করেছিলেন যে ‘পরিস্থিতি খুবই বিপদজনক, কারণ মিসর তো এটা মেনে নিতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আগে বলেছি এবং আমি আবারও স্পষ্ট এবং জোর গলায় বলছি— ওরা এই বাঁধ উড়িয়ে দেবে। তাদের কিছু একটা করতে হবে।’

jagonews24
বাঁধ নিয়ে আলোচনা কোন পর্যায়ে?
আবি আহমেদ বলছেন, আফ্রিকান ইউনিয়ন বাঁধ নিয়ে বিতর্কে মধ্যস্থতা শুরুর পর আলোচনা অনেক এগিয়েছে। তবে ইথিওপিয়া বাঁধের পেছনের জলাধার পূর্ণ করতে শুরু করার পর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে মূল বিষয়গুলোতে সমঝোতা হওয়ার ব্যাপারটি এখন ভেস্তে যেতে পারে।

বিশেষ করে খরার সময় কী হবে কিংবা ভবিষ্যতে কোন বিরোধ দেখা দিলে তার সমাধান কীভাবে হবে।

এসএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]