দোহায় ১০ ফ্লাইটের নারীদের নগ্ন করে তল্লাশি, ক্ষুব্ধ অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৩৪ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২০

কাতারের রাজধানী দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১০টি ফ্লাইটের নারী যাত্রীদের আক্রমণাত্মক শারীরিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে অস্ট্রেলিয়া। এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটি।

বুধবার অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেরাইজ পেইন সিনেটের এক শুনানিতে জানিয়েছেন, দোহা বিমানবন্দরে মোট ১০টি প্লেনের নারী যাত্রীরা তল্লাশির মুখে পড়েছেন। এ ঘটনাকে তিনি ‘জঘন্য বিরক্তিকর’ ও ‘আপত্তিজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেছেন, আমরা গতকালই দোহায় এ ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরেছি।

মূলত, ২ অক্টোবর সিডনিগামী কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটের নারী যাত্রীদের সরিয়ে নেয়ার ঘটনা আলোচনায় আসে গত রোববার।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, তাদের প্লেন থেকে নাামিয়ে টারম্যাকে দাঁড় করানো একটি অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে নগ্ন করে দেহ তল্লাশি করা হয়।

jagonews24

অস্ট্রেলিয়ার বৈদেশিক সম্পর্ক বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মোট ১৮ নারীকে এ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ জন অস্ট্রেলীয়, বাকি পাঁচজন অন্য দেশের নাগরিক।

এদিকে, কাতারের সরকারি সংযোগ কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনার দিন বিমানবন্দরের টয়লেটে ময়লার ঝুঁড়িতে প্লাস্টিকের ব্যাগের মধ্যে একটি নবজাতক শিশুকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।

কাতার সরকারের দৃষ্টিতে এটি খুবই মর্মান্তিক ঘটনা ও প্রাণঘাতী আইনভঙ্গের মতো অপরাধ। এমন ঘৃণ্য অপরাধীকে দ্রুত খুঁজে বের করতেই তাৎক্ষণিক তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

বিবৃতিতে কাতার বলেছে, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ওই তল্লাশির প্রধান লক্ষ্য ছিল, ঘৃণ্য অপরাধী যেন পালিয়ে যেতে না পারে। তবে এর জন্য কোনও ভ্রমণকারীর ব্যক্তিস্বাধীনতা লঙ্ঘন হলে তার জন্য কাতার আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

নিউ সাউথ ওয়েলসের ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন জানিয়েছে, তারা দোহা বিমানবন্দরের এ ঘটনাকে অস্ট্রেলীয় বিমানযাত্রীদের মানবাধিকারের ওপর নির্দয় আক্রমণ হিসেবে দেখছে।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন, তারা নারী যাত্রীদের সঙ্গে এমন আচরণে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

এদিকে, দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ টয়লেটে পাওয়া শিশুটির বাবা-মাকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছে। তারা বলেছে, কন্যা শিশুটির পরিচয় এখনও অজ্ঞাত। তবে পেশাদার মেডিক্যাল ও সমাজকর্মীদের তত্ত্বাবধানে সে এখন নিরাপদেই রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

কেএএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]